মিঠাপুকুর উপজেলা প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, তাঁদের স্বজন এবং ঘনিষ্ঠজনেরা। এমনকি দলীয় ক্ষমতার বলে এক তথ্য সংগ্রহকারীর প্রেমিকা ও স্থানীয় সভাপতির স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ‘মিঠাপুকুর উপজেলা ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩ হাজার ৯১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারিক দক্ষতা, জিপিএ ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা থাকলেও ১০ আগস্ট রাতে প্রকাশিত ফলাফলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
উপজেলার ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রংপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে তাঁর প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত এক তরুণী।
অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল নেতা নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ও উপজেলা বিএনপির সভাপতির ক্ষমতার জোরে শুধু নিজের প্রেমিকাকেই নয়, নিজের গ্রাম চিথলী দক্ষিণপাড়া থেকেই ৯ জনকে সুপারিশের মাধ্যমে নির্বাচিত করিয়েছেন। একই ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতির এক ভাতিজা ও ভাতিজিও নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নেও স্বজনপ্রীতির একই চিত্র পাওয়া গেছে। রানীপুকুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের স্ত্রী, বড় হযরতপুর ইউনিয়নে সভাপতির খালাতো ভাই এবং পায়রাবন্দ ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির মেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি ভাংনী ইউনিয়নে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের এক সাবেক সহসভাপতিকেও সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা। তিনি দাবি করেন, “আমি শতভাগ মেধার জোরে নির্বাচিত হয়েছি। যাকে আমার প্রেমিকা বলা হচ্ছে, সে কেবল আমার এলাকার পরিচিত একজন। কোনো দলীয় সুপারিশ করা হয়নি।” একই সুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির কণ্ঠেও; তিনি নিজের স্বজনদের সুযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট গ্রামটি বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে বেশি প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারে।
এদিকে, ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, ১৭টি বোর্ডের মাধ্যমে ৩৪ জন কর্মকর্তার তদারকিতে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই এই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নজর এড়ায়নি স্থানীয় সংসদ সদস্যের। রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য জানান, শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠী থেকে একের পর এক নিয়োগ পাওয়ার তথ্য তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ আবেদনকারীরা।
