ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৪নং কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০ ২৭ অর্থ বছরের এডিপি ও রাজস্ব খাতের উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে ইউপি সদস্যদের মতামত না নিয়ে এককভাবে দাখিল করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যানের দাখিলকৃত বিতর্কিত প্রকল্পটি অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
একই সাথে পরিষদের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে আলোচনা করে নতুন প্রকল্প তালিকা প্রণয়নপূর্বক আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য জনাব সামছু মিয়া গং কর্তৃক গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়। অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অদুদ আলম কর্তৃক দাখিলকৃত এডিপি ও রাজস্ব খাতের প্রকল্পটি পরিষদ সদস্যদের কোনো মতামত বা আলোচনা ছাড়াই এককভাবে তৈরি করে দাখিল করা হয়েছিল, যা বিধিসম্মত নয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ আগস্ট ২০২৬ (২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩) তারিখে স্মারক নম্বর ০৫.৪৬.৯০২৩.০০০.০০.০৪.০০০২.২৫.৫২৭ এর মাধ্যমে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন চেয়ারম্যান অদুদ আলমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মতামত ছাড়া এককভাবে দাখিলকৃত প্রকল্প তালিকাটি গ্রহণযোগ্য নয়। এমতাবস্থায়, পরিষদের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে পুনরায় আলোচনা করে বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রকল্প তালিকা প্রণয়নপূর্বক গৃহীত কার্য বিবরণীসহ প্রতিবেদন আগামী ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে ইউএনও কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান ডেবিল অদুদ আলমের বিরুদ্ধে, মেম্বারদেক অন্ধকারে রেখে একক সিদ্ধান্তে এডিপি ও রাজস্ব খাতের প্রায় ২০ লাখ টাকার প্রকল্প আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মনগড়া তালিকা দাখিলের অভিযোগ ওঠে। এতে মেম্বারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা ইউএনও বরাবরে লিখিত প্রতিকার চান।
এদিকে, চেয়ারম্যান অদুদ আলমের এসব অনিয়ম ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানামুখী বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং ইউপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি এমন অপপ্রচার, সদস্যদের হুমকি প্রদান ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, ভুক্তভোগী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্যরা। তারা জানান, প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে কালারুকা ইউনিয়নে মেম্বারদের অধিকার রক্ষা পাবে এবং প্রকৃত এলাকার উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
