Shopping cart

নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে একক দখলচেষ্টার প্রতিবাদে অপরাংশের তালা।

জুলাই ৮, ২০২৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ প্রতিনিধি, শান্তিগঞ্জ:

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভবনটির নির্মাণকাজ ও সরকারি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এক পক্ষের এককভাবে ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদস্বরূপ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে প্রেসক্লাবের অপরাংশ ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব একসঙ্গে পরিচালিত হলেও সাংগঠনিক মতবিরোধের জেরে পরবর্তীতে একই নামে দুটি পৃথক কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকেই নবনির্মিত প্রেসক্লাব ভবনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রেসক্লাব ভবনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এখনো ভবনটির সব কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেনি। এমন অবস্থায় একাংশের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সুহেল তালুকদারের নেতৃত্বে একটি পক্ষ এককভাবে তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ এবং দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার পর অপরাংশের নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন এবং বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিষয়টির সামাজিক সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে সমঝোতার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সাড়া না দেওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসন ও থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসক্লাবের অপরাংশ নির্মাণাধীন ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ সময় আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই ভবন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি শান্তিগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকের যৌথ সম্পদ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং প্রশাসনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগে কোনো পক্ষের এককভাবে ভবন ব্যবহার বা দখলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির বলেন, “শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এটি উপজেলার সকল সাংবাদিকের যৌথ অধিকার। মতবিরোধ থাকলেও এই ভবনে সবার সমান অধিকার রয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করেন।”

সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক বলেন, “ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সাংগঠনিক বিরোধের কারণে সাংবাদিকরা দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছেন। বর্তমান বাস্তবতায় উভয় পক্ষেরই দাবি রয়েছে। বিষয়টির সমাধান আইনসম্মত ও আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই ভবন সকল সাংবাদিকের সম্পদ। তাই প্রশাসনের নিরপেক্ষ উদ্যোগের মাধ্যমে ন্যায়সংগত সমাধান কামনা করছি।”

প্রতিবাদকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, ভবন দখলে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এসব অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং সরকারি ভবনটি সকল সাংবাদিকের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির, সহ-সভাপতি এম. এ. কাশেম চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, কাজী ছাদিকুর রহমান আতিক, মো. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান, অর্থ সম্পাদক আতিকুর রহমান রুয়েব, প্রচার সম্পাদক ছালিক আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মান্নার মিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক উসমান গনি, নির্বাহী সদস্য দিলীপ দাশ, আবিদ উদ্দিন, আহমদ উসমানসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *