পাপলু মিয়া, ছাতক, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে মা রংফুল বেগমের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর সন্তানেরা। মঙ্গলবার দুপুরে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন ভুক্তভোগীর ছেলে ও সৌদি আরবপ্রবাসী আবদুল হান্নান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুল হান্নান জানান, গত বছরের শুরুতে তাঁর বাবা আবদুল গফুর, মা রংফুল বেগম এবং স্ত্রী ফারজানা বেগম ছাতক শহরের রহমতবাগ আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাঁর বাবার পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং তাঁর মা নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৪ মে ছাতক থানায় অভিযোগ এবং পরবর্তীতে ২৩ জুন সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
আবদুল হান্নান অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ২০ মার্চ সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তিনি জানতে পারেন তাঁর মা বাসার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। দেশে ফিরে অভিযোগ জানাতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি; বরং ঘটনাটি তাঁর বাবার বাদী করা অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
ঘটনার বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে আবদুল হান্নান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের আগেই পানির ট্যাপ খুলে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া শয়নকক্ষের পর্দা, চাবির গোছা ও স্যান্ডেলে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছিল, যার যথাযথ তদন্ত হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর বাবা বিভিন্ন সময় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। থানায় একরকম কথা বললেও আদালতে অন্যরকম বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া অপমৃত্যুর মামলায় নিজের স্বাক্ষর জাল হওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। আব্দুল হান্নানের অভিযোগ, তাঁর বাবা, স্ত্রী এবং স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশেই তাঁর মাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ প্রশাসন, তদন্ত সংস্থা ও বিচার বিভাগের কাছে রংফুল বেগমের মৃত্যুর ঘটনার স্বচ্ছ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান তিনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে কুলসুমা আক্তার, রূপেজা বেগম, রুহুল আমিন ও রুমান উপস্থিত ছিলেন।



