Shopping cart

হামলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বললেন অর্ঘ্য-চন্দন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

জুন ২৭, ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও সমাজকর্ম বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়ের ওপর হামলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও সমাজকর্ম বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়ের ওপর হামলা

জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও সমাজকর্ম বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন অভিযুক্ত নাট্যকলা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী চন্দন কুমার দাস। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় মন্দিরে সাধারণ সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অপূর্ব রায় অভিযোগ করেন, অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ ও চন্দনের নেতৃত্বে বহিরাগত এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশ নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন দুই অভিযুক্ত।

চন্দন কুমার দাস বলেন, সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সাধারণ আলোচনার সময় অপূর্ব রায়ের সঙ্গে ১৯তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর তর্কের সূত্র ধরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা ছিল না।

তার ভাষ্য, ঘটনাস্থলে এক পক্ষের একজনকে বাঁশ হাতে এবং অপর পক্ষের কয়েকজনকে ইট হাতে এগিয়ে আসতে দেখা গেলেও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ও অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, যা তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাসও বলেন, কেন্দ্রীয় মন্দিরের গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি কিংবা হামলার নির্দেশও দেননি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিরাগত এনে হামলার নেতৃত্বদানকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

চন্দন কুমার দাস ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকলেও তিনি কখনো সংগঠনটির কোনো পদে ছিলেন না। সাংগঠনিক প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থেকেই তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন।

এদিকে হামলার অভিযোগকারী অপূর্ব রায় ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাসও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. নঈম সিদ্দিকী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *