দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আওয়ামী লীগের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার বসতঘর নির্মাণে বাধা, মিথ্যা মামলা এবং মানববন্ধনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় স্থানীয়রা জানান, নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে লাফার্জ বিওপি ক্যাম্প সংলগ্ন সড়কের উত্তরের জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তারা পুরোনো টিনশেড ঘর ভেঙে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
অভিযোগ করা হয়, বাংলাবাজার ইউনিয়নের পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের মৃত কাছিম আলীর ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম, মৃত আশরফ আলী (চুল্লা)’র ছেলে আশরাফ আলী, নুরুল হক, আহাদ আলী ও মোস্তফা মিয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ ভূমিখেকু চক্র ঘর নির্মাণের সময় আমির উদ্দিনের বড় ভাই মৃত মইজ উদ্দিনের স্ত্রী আলেয়া বেগমকে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বসতঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও তারা হুমকি দেয়। তাদের দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দেওয়ায় বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শ্যামারগাঁও গ্রামের নিকটবর্তী বাজার হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাংলাবাজারে যাতায়াত করেন। আমির উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদেরও ওই পথে চলাচল করতে হয়। এ সুযোগে অভিযুক্তরা তাদের পথে পথে হয়রানি করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, আমির উদ্দিন পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে ঘর নির্মাণ করছেন। এর জেরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে গত ৬ মার্চ আমির উদ্দিন ও তার পরিবারকে জড়িয়ে মানববন্ধন করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির পাশ দিয়ে পর্যাপ্ত পানি চলাচলের রাস্তা রয়েছে এবং সেটি কোনো নির্ধারিত খাল নয়। বর্ষাকালে ফসলি জমির সামান্য পানি চলাচল করে মাত্র। তবুও জলাবদ্ধতা এড়াতে রাস্তা রেখে ঘর নির্মাণ করছেন আমির উদ্দিন। কিন্তু চাঁদা আদায় করতে না পেরে একটি চক্র মিথ্যা মামলা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় বক্তারা অবিলম্বে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ এবং চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শ্যামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম, আব্দুল কাদির, হাবিবুর রহমান, হেলাল মিয়া, তাজ উদ্দিন, শরিয়ত উল্লাহ, মিম্বর আলী, খোয়াজ আলী, আলী হোসেন, শেখ ফরিদ, বাবুল মিয়া, রুমেন মিয়া, নুর মিয়া, এমরান হোসেন, জমির উদ্দিন, জাবেদ মিয়া, আব্দুস শহিদ ও আমির উদ্দিনসহ অনেকে।
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, উভয় পক্ষই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে আদালতে মামলা থাকায় প্রশাসনের সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। এটি কোনো খাল নয়, বরং ফসলি জমির সামান্য পানি চলাচলের পথ। জমিটি আমির উদ্দিনের পৈতৃক বৈধ সম্পত্তি। তবুও তিনি পানি চলাচলের রাস্তা রেখেই বসতঘর নির্মাণ করছেন। পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের কিছু মানুষ অযথা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



