নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ব্যক্তি মালিকানাধীন দোকানকোটা জোরপূর্বক দখল, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জানুয়ারি ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ গোলাম সারওয়ার অভিযোগপত্র (নং-০৯/২০২৬) সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করেন। চার্জশিটে ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৪৪৮ (অবৈধ অনুপ্রবেশ), ৩৮০ (চুরি), ৪২৭ (ক্ষতিসাধন) ও ৫০৬ (হুমকি) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ১৪৩ ধারার অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তা অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপাশা ইউনিয়নের বাগেরকোনা গ্রামের রওশন খান সাগর গংদের জাউয়াবাজারে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি দোকানকোটা রয়েছে। ওই দোকানকোটার মালিকানা নিয়ে স্থানীয় গুলনেহার বেগম গংদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে ছাতক উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দোকানটি ক্রোকাবদ্ধ রাখেন।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১৪ মে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দোকানটি সাগর খান গংদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। মালিকানা ফিরে পেয়ে তারা দোকানটি সংস্কার করে আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেন। তিনি সেখানে মালামাল তুলে ব্যবসা শুরু করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা ভাড়াটে লোকজন নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে দখল নেয়। এ সময় ব্যাপক লুটপাট ও ভাংচুর চালানো হয়, যাতে বাদীপক্ষের লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুরো ঘটনাটি দোকানে স্থাপিত সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
খবর পেয়ে সাগর খান গংদের লোকজন জাউয়াবাজার ব্যবসায়ী কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকি’ দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
ঘটনার পর রওশন খান সাগর বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন (এফআইআর নং-২০, তারিখ: ১৮.১০.২০২৫)। মামলায় স্থানীয় জাউয়া গ্রামের মৃত সুনু মিয়ার ছেলে রফিক মিয়া (৪৮), মৃত খানুর মিয়ার ছেলে সুমন জাকারিয়া (৩৫), রফিক মিয়ার ছেলে আনহার মিয়া (২৩) এবং মৃত তাহির আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (৩৩)-কে আসামি করা হয়।
দুই দফা তদন্ত শেষে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনযোগ্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং তাদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারির সুপারিশ করে। আদালত ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জাউয়াবাজারের ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।



