সাজু আহমেদ: চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বাম্পার ফলন নিশ্চিতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে জোরদার তৎপরতা শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সেচ ব্যবস্থাপনা তদারকি এবং কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার উপজেলার রোহিতা, খেদাপাড়া ও ঝাপা ইউনিয়নের বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন। এ সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি না করা এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ডিলারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
পরিদর্শনকালে উপপরিচালক বলেন, বোরো আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। কোনো অসাধু চক্র যাতে সারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাঠ পর্যায়ের এ তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শাহানাজসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। তারা শুধু অফিসিয়াল পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। মাঠে নেমে কৃষকদের চারা রোপণ, সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
রোহিতা ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে সারের জন্য দুশ্চিন্তা থাকত। এখন কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত দোকান পরিদর্শন করছেন এবং আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মণিরামপুরে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার জানান, অনুকূল আবহাওয়া এবং চলমান তদারকি অব্যাহত থাকলে এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন সম্ভব হবে।



