জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধান পেতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি মতবিনিময় সভা করেছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এ তথ্য জানান।
সভায় উপাচার্য নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কোনো সদস্য বিপদে পড়লে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
সভায় উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা সিরাজুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা তার সন্ধান পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে প্রচারণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ দ্রুত গঠনের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, জকসু প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



