জবি প্রতিনিধি:
নন টেকনিক্যাল বা জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, দক্ষতা ও ধারাবাহিক অনুশীলনই আইটি খাতে সফলতার প্রধান শর্ত।
রোববার (১৯ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২১৫ নম্বর কক্ষে আয়োজিত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স’ বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং পিপলএনটেকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ উম্মে হানি। তিনি ‘সুপারভাইজড লার্নিং’, ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডেটা সায়েন্সের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এআই ও ডেটা সায়েন্সের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং এ খাতে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিপলএনটেকের বিজনেস ম্যানেজার মো. আশরাফুল মোর্শেদ। তিনি বলেন, “মানুষ আর টেকনোলজির মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করাই পিপলএনটেকের মূল লক্ষ্য। আমরা যত সামনে এগিয়ে যাব, প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ততই বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “২০০৪ সাল থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে আইটি ট্রেনিং ও জব প্লেসমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশেও গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে এ সেবা দিয়ে আসছি। এই সময়ে আমরা প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে আধুনিক আইটি প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং ৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে সফলভাবে চাকরিতে যুক্ত হতে সহায়তা করেছি।”
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক চাকরি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
পিপলএনটেকের প্রতিনিধি বলেন, “আনন্দের বিষয় হলো, আমাদের দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশই এসেছেন নন টেকনিক্যাল বা জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এবং তারা বর্তমানে আইটি সেক্টরে সফলভাবে চাকরি করছেন।”
অনুষ্ঠানে পিপলএনটেকের হিউম্যান রিসোর্স এক্সিকিউটিভ ফারজানা আক্তার আঁখি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের করপোরেট সংস্কৃতি, চাকরির বাজারের বর্তমান চাহিদা এবং নিজেকে দক্ষ প্রার্থী হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাকরি বাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবহারিক কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।



