জবি প্রতিনিধি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারিতে আন্দোলনে নিজেদের ভূমিকার ছবি স্থান না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্মরণসভায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে অনেকেই অনুষ্ঠান বয়কট করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন ত্যাগ করেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘স্মরণে জুলাই, ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানের শেষদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ডকুমেন্টারি চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ ও কার্যক্রমের কোনো ছবি সেখানে স্থান পায়নি। এ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় আরও অভিযোগ ওঠে, ৫ আগস্টের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘যমুনা আন্দোলনের’ কিছু ফুটেজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারিতে সংযোজন করা হয়েছে। এতে ঘটনাক্রম উপস্থাপনে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি করেন উপস্থিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ অনেক নেতাকর্মী অনুষ্ঠান বয়কট করে মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব মঞ্চে উপস্থিত থাকাকালেই এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে হামিদুর রহমান হামিদ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এরপর অনেক নেতাকর্মীও হল ছেড়ে বেরিয়ে যান।
পরে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডকুমেন্টারিতে কয়েকজনের ছবি বাদ পড়া সম্পূর্ণ সম্পাদনাজনিত অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। তাদের দাবি, সম্পাদনার সময় অসাবধানতাবশত কিছু ছবি বাদ পড়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে এবং বর্তমানে এ নিয়ে সংগঠনের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “ডকুমেন্টারিতে নিজেদের ছবি না থাকায় ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের উপস্থিতিতেই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অনেক নেতাকর্মী অনুষ্ঠান বয়কট করে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করেন।”
এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



