Shopping cart

গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ।

গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ মহিলা (ডিগ্রি) কলেজের অধ্যক্ষ এ. এইচ. এম. আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষকদের হেয় করা, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ বলা হয়, অধ্যক্ষ এ. এইচ. এম. আহসান হাবীব নিয়মিতভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও হেয়কর আচরণ করে আসছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য, পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে কথা বলা এবং ব্যক্তিগত পোশাকসংক্রান্ত বিষয়ে পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।

আবেদনে আরও বলা হয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে অধ্যক্ষ ব্যক্তি ও প্রশাসনিক স্বার্থ হাসিল করেন। ওই সময় কলেজে অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হন এবং স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভর্তি, পরীক্ষা, সনদ, উন্নয়ন ফি ও অন্যান্য খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় করে তা কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি অনুদান, কলেজ উন্নয়ন তহবিল ও অন্যান্য বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় না করে ভুয়া ভাউচার ও হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অডিট সংশ্লিষ্ট অর্থ প্রকৃত ব্যয় ছাড়াই উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না হওয়ায় অব্যয়িত বোর্ড ফি’র অর্থ আত্মসাৎ করা হয়, যা সরকারি বিধি ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

কর্মচারী নিয়োগ ও পদায়নে উৎকোচ গ্রহণ এবং ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, এসব অনিয়ম তদন্তের জন্য পূর্বে গঠিত একটি তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করে অর্থের বিনিময়ে তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বগুড়ার বারবাকপুর এলাকায় জমি, ঢাকার আদাবর এলাকায় প্রায় ১৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। এসব সম্পদের মাধ্যমে অবৈধ আয়ের উৎস গোপন ও অর্থপাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা কলেজে বিক্ষোভ করেন।

অভিযোগকারীরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ জব্দসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বিষয়ে অধ্যক্ষ আহসান হাবীবকে একাধিকবাল কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *