জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিবের উদ্যোগে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খাবার বিতরণের সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে বলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী হিন্দু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি তোয়াক্কা না করে তাদের হাতে গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ির বক্স তুলে দেওয়া হয়। খাবার খুলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
তবে এই ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা ও জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্পষ্টীকরণে তিনি উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ৫০টি মোরগ পোলাওয়ের ব্যবস্থার পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় খাবার এসে না পৌঁছানো এবং অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অসাবধানতার কারণে অন্য শিক্ষার্থীরা স্টেজের পেছনের খাবারগুলো খেয়ে ফেলে।
তিনি আরও জানান, এর ফলেই ভুলবশত ভুনা খিচুড়ির প্যাকেজগুলো সনাতন শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই দ্রুত আরও ৫০টি মোরগ পোলাও এনে বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পুরো ঘটনাটির জন্য মাইকে আগাম ঘোষণা না দেওয়াকে মূল সমন্বয়হীনতা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি ও উপস্থাপনা দল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে বিনম্র ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক সার্বজনীন কোনো আয়োজনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় চেতনার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা আবশ্যক। যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে যাতে ভবিষ্যতে এমন স্পর্শকাতর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আয়োজকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

