সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, কুলেন্দু শেখর দাস:
সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার দ্বি বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুুিুুষ্ঠত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ করে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন দিপু।
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট বিমান কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিকের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর।
এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য শিবু, এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ ও সদস্য এডভোকেট মলয় চক্রবর্তী রাজু।
এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী এবং জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রাধাকান্ত সূত্রধর,জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক বিপ্লব কান্তি তালুকদার,জামালগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু অজিত রায়,শান্তিগঞ্জের সুরঞ্জিত চৌধুরীূ টপ্পা,তাহিরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক গণেশ তালুকদারসহ আরো অনেকেই্ ।
বক্তারা বলেন,এই দেশে সংখ্যালঘুরা কিন্তু ভানের পানিতে ভেসে আসেনি। স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন সি আর দত্ত,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন প্রয়াত সুরজ্ঞিত সেন গুপ্তসহ অনেকেই। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী এই দেশে বিভিন্ন সরকারের সময় সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে বার বার আক্রমন করে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। তারা বলেন,গত কিছুদিন আগে তাহিরপুরের বাদাঘাট এলাকার গড়কাটি গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে মিছিল করে বসতঘর ও মন্দিরে ও হিন্দুদের দোকানপাঠে হামলা ভাংচুর করা হয়।
এই ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালে ও যারা নিরপরাধ হিন্দুওেওদর বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর করেছে এবং পলাশবাড়িতে রামের প্রতিকুতিতে জুতা নিক্ষেপ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের দাবি জানান এবং সংখ্যালঘুদের অর্পিত সম্পত্তি ও সংখ্যালঘু আইন এবং সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
দেশের সার্বিক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।তারা আরো বলেন, সম্প্রীতির জেলা সুনামগঞ্জে যুগ যুগ ধরে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্যকে যেকোনো মূল্যে অক্ষুন্ন রাখতে হবে এবং যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত পূজা উদযাপন পরিষদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী সুধীজন অংশ নেন।



