মাহফুজ কাউসার ছাদি :
জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের দিগারাইল গ্রামে বৈঠা খালের পাড় ধরে চলাচলের রাস্তাটি এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খনন শুরু করলে রাস্তার কিছু অংশ কেটে খালের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় এবং কবরস্থানের জমিতে খনন কাজ চালিয়ে প্রায় ৫/৬টি পুরোনো কবর খালের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে।
গ্রামবাসী বারবার বাঁধা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে গ্রামবাসী বাঁশের বাঁধ দিয়ে কবরস্থান ও রাস্তা রক্ষার চেষ্টা করলে নিজপাট ইউনিয়নের ডৌডিক গ্রামের কয়েকজন লোক তা করতে বাঁধা দেন। ফলে এখন পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বৃদ্ধিতে কবরস্থান ও চলাচলের রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকার জনৈক ব্যক্তি বলেন, এটি একটি সরকারি ইউনিয়ন সড়ক, যা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এই পথে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কবরস্থানে জানাজা ও দাফনের সময়ও মরদেহ নিয়ে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রায় ২০০ জনের স্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন করা হলেও প্রশাসন থেকে এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত রাস্তা ও খাল দখলমুক্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অপরদিকে ঠিকাদার সাহেব আলী বলেন, একটি গাড়ি আটকে গেলে তা তুলতে সময় লাগে, ফলে রাস্তার মাটি নরম হয়ে যায়। বর্ষাকালে সেই নরম মাটি সরে গেছে। তারা রাস্তা মেরামত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এলাকার এক মৌলবী সাহেব মাটি উত্তোলনে বাঁধা দিলে স্থানীয় লোকজনও নিষেধ করেন। তাই তারা কাজ করতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে সাবেক মেম্বার ও এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি মাহমুদ আলী বলেন, বৈঠা খালের যে ম্যাপ সেই ম্যাপ অনুযায়ী খাল খানন কাজ হচ্ছে না, ম্যাপ এর পরিবর্তে যেদিকে পানি যাচ্ছে সেদিকেই খাল খনন করা হচ্ছে, ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, খাল খননের কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে চলছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি বোর্ডের কাছে পাঠিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, আমরা বর্ষাকালের জন্য খাল খননের কাজ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রেখেছি। যখন খাল খনন হবে তখন খালের মাটি রাস্তার মধ্যেই ফেলা হবে, ফলে রাস্তা মজবুত এবং উন্নত হবে।



