সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামের মাঝেরটুক এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় খাইমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় অবসান ঘটেছে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগের।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ গ্রামবাসীর সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে সেতুটির উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামের মাঝেরটুক এলাকার শতাধিক পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একটি সেতুর অভাবে খাইমারা খাল পারাপারে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছিল। বছরের প্রায় ১২ মাসই খালে পানি থাকায় নৌকাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থী, নারী ও জরুরি রোগীদের যাতায়াতে ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ।
স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কেউই তা বাস্তবায়ন করেননি।
এই দুর্ভোগ লাঘবে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ প্রতিশ্রুতি দেন—নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি সেতু নির্মাণ করবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁর উদ্যোগে ও সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৮১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেতু নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, “নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের ৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত আরও ৬ লাখ টাকা—মোট ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর মাধ্যমে এলাকাবাসীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক সেনা সদস্য গোলাম রহমান, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং মাঝেরটুক এলাকার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



