দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দু’জন নিহতের ঘটনায় এক পক্ষ, আকবর আলীকে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসী।
শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় লক্ষিপুর গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে,এঘটনায় শনিবার দুপুর ২ টার দিকে দু’পক্ষের দু’জনকে গ্রেফতার করে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ।
আকবর আলী’র হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে স্থানীয় লক্ষিপুর গ্রামের যুবকদের মধ্যকার খেলায় একটি গোল হওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় আকবর আলী এলাকায় ছিলেন না। মোটরসাইকেলে যাত্রী টানার সুবাদে স্থানীয় লিয়াকতগঞ্জ লক্ষিপুর বাজারে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু তারা লক্ষিপুর গ্রামবাসীর সাথে খেলাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত বাকবিতন্ডার ঘটনার আক্রুশ মেটাতে জিরারগাঁও গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মন্নানের পুত্র আব্দুল কাদির (৪৫) এর নির্দেশে তার ভাতিজা লক্ষিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য রিপন মিয়া (৩০) এবং নিহত আব্দুল মতিনের ছেলে জাকারিয়া (২০) লক্ষিপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র আকবর আলী (৩৮)’কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
অভিযুক্ত জাকারিয়া নিহত আকবর আলীক ঝাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং রিপন মিয়া বুকে বসে দাঁড়ালো চায়নিছ ছুরি দিয়া বুকের বাম পাশে আঘাত করে হত্যা করে। ছেলে আকবর আলী’কে ছুরিদিয়ে আঘাত করার বিষয়টি পাশের একটি দোকানে বসে দেখতে পেয়ে তার পিতা আব্দুল মান্নান (৫৫) দৌড়ে উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে আসতে চাইলে জাকারিয়া এবং রিপন মিয়া বৃদ্ধ আব্দুল মান্নানকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। কিল-ঘুষিতে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে থাকে আব্দুল মান্নান।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন চৌধুরীর এবং স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে ফার্মেসির পল্লী চিকিৎসক আকবর আলীকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠিয়ে দেয়। সেখানে গেলে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকবর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে পরিবার ও এলাকাবাসী। এতে বক্তব্য রাখেন, নিহতের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার, ছোট বোন হেপি বেগম (২২),লক্ষিপুর গ্রামের সুনাফর আলী’র পুত্র রাজ্জাক মিয়া ( ২৫), আকরম আলী’র পুত্র শফিক মিয়া (৩৫),মুক্তার আলীর পুত্র ময়না মিয়া (২৫). রশরাই গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা জলিল মিয়া (৭০)। এসময় এলাকার শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহত দু’জনের মরদেহ ময়না তদন্তের পর শনিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে । জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে,শুক্রবার সন্ধায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র আকবর আলী (৩৮)এবং জিরারগাঁও গ্রামের আ: মন্নানের পুত্র আব্দুল মতিন (৪২) হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়।
এঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন-নিহত আব্দুল মতিনের ছেলে অভিযুক্ত জাকারিয়া (২৩) ও নিহত আকবর আলীর ছোট ভাই জাবের আহমদ (২২)।