জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পঞ্চমবারের মতো দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত উৎসব শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয় বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল।” তিনি ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং জাতির আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেও নজরুল তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবন ও শোষণবিরোধী দর্শন আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বকবির সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তাধারা বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এবং জবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে যৌথভাবে এ ধরনের উৎসব আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান অবিস্মরণীয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের সাহিত্য, দর্শন ও জীবনাদর্শ পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকারী সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায় বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনার দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের সাহিত্য ও সংগীত নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য।”
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনটি ‘রবীন্দ্র-পর্ব’ হিসেবে এবং দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ‘নজরুল-পর্ব’ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। এছাড়া রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় ‘শ্যামল সুন্দর’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ, ধৃতি নর্তনালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের যৌথ পরিবেশনায় নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ দর্শকদের মুগ্ধ করে।
সংগীত বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।



