Shopping cart

Magazines cover a wide array subjects, including but not limited to fashion, lifestyle, health, politics, business, Entertainment, sports, science,

  • Home
  • শিক্ষাঙ্গন
  • মারমা স্কুলছাত্রী তার স্বজাতি কর্তৃক গণধর্ষণের নিন্দা জানিয়েছে পিসিসিপি

মারমা স্কুলছাত্রী তার স্বজাতি কর্তৃক গণধর্ষণের নিন্দা জানিয়েছে পিসিসিপি

আগস্ট ২০, ২০২৫

মারমা স্কুলছাত্রী তার স্বজাতি কর্তৃক গণধর্ষণের নিন্দা জানিয়েছে পিসিসিপি।

মারমা স্কুলছাত্রী তার স্বজাতি কর্তৃক গণধর্ষণের নিন্দা জানিয়েছে পিসিসিপি।

আহমদ বিলাল খান: বান্দরবান পার্বত্য জেলার রুমা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক নিরীহ মারমা শিক্ষার্থী তার স্বজাতির (মারমা) ৫ যুবক কর্তৃক ভয়ঙ্কর গণধর্ষণের শিকার হলেও তাকে ন্যায়বিচার না দিয়ে সামাজিক বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচ যুবককে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় (২০ আগষ্ট) বুধবার সকালে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম।

বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় মারমা শিক্ষার্থীকে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করে তারই স্বজাতিরা, ধর্ষণকারীরা হলো- রুমা উপজেলার পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা ক্যাহা ওয়াইং মারমা, ক্যওয়ং সাই মারমা, চহাই মারমা, উহাই সিং মারমা এবং ক্য সাই ওয়ং মারমা।

পিসিসিপি’র বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে পাইন্দু ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা রাংমেশে মারমা’র ছেলে শৈহাইনু মার্মা প্রথমে ছাত্রীটিকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার সহপাঠী ও বন্ধুদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হলে শৈহাইনু’র চার বন্ধু বন্ধু ক্যায়া ওয়াইং, ক্য ওয়ং সাই, চহাই, উহাই সিং ও ক্য সাই ওয়ং ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে একই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। নির্যাতন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত অসহায় কিশোরী ঘটনাটি পরিবারকে জানায়।

কিন্তু ন্যায়বিচার দেওয়ার বদলে গত ১৯ আগস্ট পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় কারবারী থোয়াইসা মার্মার সভাপতিত্বে এক সালিশ বসে। সেখানে পাইন্দু ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গংবাসে মার্মা এবং পাইন্দু মৌজার হেডম্যান মংচউ মার্মাগং-এর নেতৃত্বে অভিযুক্তদের মোটে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এমনকি জরিমানার টাকাটিও বাকি রাখা হয়, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আরো ভয়ংকর বিষয় হলো ভিকটিমের পরিবারকে পাড়ায় আটকে রাখা হয়েছে যাতে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারেন। পরবর্তীতে গতকাল রাতে বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন সোসাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হলে বান্দরবান পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার এর নির্দেশে রুমা থানার পুলিশ পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করে ৫জন আসামীর মধ্যে ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করে। তার জন্য পুলিশ সুপার ও রুমা থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি বাকি ২জন আসামী অতি দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন- আজ যদি কোন বাঙালী উক্ত ধর্ষনটি করত তাহলে এতক্ষণে কত লেখালেখি, কত মিছিল, কত বিক্ষোভ আমরা দেখতে পারতাম কিন্তু এখন কোথায় গেল সেই লেখালেখি, কোথায় সেই মানবাধিকার কোথায় সেই প্ল্যাকাড হাতে বিক্ষোভ???

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, টাকা দিয়ে ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়া কেবল অন্যায় নয়, এটি ভবিষ্যতে আরও অপরাধের পথ খুলে দেবে। পিসিসিপি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে-অভিযুক্ত বাকি ২জন আসামীকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, ধর্ষণ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ কখনো সামাজিক সালিশে নিষ্পত্তি হতে পারে না। এখন জনমতের একটাই দাবি-ভুক্তভোগী শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে ধর্ষকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনি শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।

রুমার এই নৃশংস গণধর্ষণের পরও পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তাদের এই নীরবতা জনমনে তীব্র প্রশ্ন তুলছে-শিশু শিক্ষার্থীর আর্তনাদ কি তাদের কানে পৌঁছায় না? তবে কি তাদের মানবাধিকারের চেতনা জেগে ওঠে শুধু অন্য জাতির বেলায়? স্বজাতি অপরাধী হলেই কি ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধও তাদের কাছে নীরব থাকার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? এই দ্বিমুখী অবস্থান আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে-অপরাধীর, না ভুক্তভোগীর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *