Shopping cart

  • Home
  • বাংলাদেশ
  • অন্যান
  • রাঙামাটির পাহাড়-হ্রদ ঘিরে পর্যটনের নতুন রূপরেখা: রাবিপ্রবিতে প্রথমবার জাতীয় ট্যুরিজম সম্মেলন

রাঙামাটির পাহাড়-হ্রদ ঘিরে পর্যটনের নতুন রূপরেখা: রাবিপ্রবিতে প্রথমবার জাতীয় ট্যুরিজম সম্মেলন

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

রাঙামাটির পাহাড়-হ্রদ ঘিরে পর্যটনের নতুন রূপরেখা: রাবিপ্রবিতে প্রথমবার জাতীয় ট্যুরিজম সম্মেলন।

রাঙামাটির পাহাড়-হ্রদ ঘিরে পর্যটনের নতুন রূপরেখা: রাবিপ্রবিতে প্রথমবার জাতীয় ট্যুরিজম সম্মেলন।

স্টাফ রিপোর্টার: রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যেই রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম সম্মেলন। এই সম্মেলনে একযোগে আলোচিত হচ্ছে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন কৌশল, আঞ্চলিক পর্যটন সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও নতুন গন্তব্য বিকাশ। রাঙামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার রূপরেখা তৈরি করছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে পর্যটন খাতের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর আলোচনা হচ্ছে।

সম্মেলনে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন কৌশল হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নীতিমালার মাধ্যমে রাঙামাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা সম্ভব।

একই সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে আঞ্চলিক পর্যটন সম্ভাবনা। কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি জনপদ, নৈসর্গিক বনাঞ্চল ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে যে বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিক ব্র্যান্ডিং ও প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন উন্নয়ন। আলোচকরা বলেন, পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা না করে পর্যটনের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পর্যটন শিল্প এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি নতুন পর্যটন গন্তব্য বিকাশ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কম পরিচিত ও অনাবিষ্কৃত এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে পর্যটন উপযোগী করে তোলার মাধ্যমে পর্যটনের চাপ কমানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরির প্রস্তাব তুলে ধরেন গবেষকরা।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হোসাইন উদ্দিন শেখর ও রাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আতিয়ার রহমান।

এই আয়োজনে মূল সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। প্লেনারি সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপকরা দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও টেকসই পর্যটন নীতিমালা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের ৭০টিরও বেশি পর্যটন গবেষক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করছেন। এসব গবেষণায় রাঙামাটি ও পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনকে ঘিরে উন্নয়ন কৌশল, পরিবেশ সুরক্ষা ও নতুন গন্তব্য তৈরির বাস্তবসম্মত রূপরেখা উঠে আসছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাঙামাটির পর্যটন সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে পর্যটন শিল্পের কার্যকর সংযোগ গড়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে রাঙামাটি পরিণত হবে দেশের অন্যতম টেকসই ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *