আহমদ বিলাল খান: শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ইয়ুথের মতো স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম। তিনি বলেন, হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্ন পূরণের যে উদ্যোগ ইয়ুথ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের ছোট ছোট সহায়তাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি শিশু একাডেমি মিলনায়তনে “হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্ন পূরণ করি” স্লোগানে ইয়ুথ’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবীব আজম বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুকে বিদ্যালয় ছাড়তে দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ইয়ুথের মতো সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষামুখী কার্যক্রম একটি সচেতন ও শিক্ষিত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৬ সালে ২১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইয়ুথ বর্তমানে ৭৫ জন শিশুর শিক্ষা ও কল্যাণে কাজ করছে।
১০ম বর্ষপূর্তির কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য মিনহাজ মুরশিদ, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সমাজসেবক মুজিবুল হক, সাবেক প্যানেল মেয়র রবিউল আলম রবি, নিউ রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, ইয়ুথ’র আজীবন সদস্য ফারুক আহমেদ সাব্বির এবং লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক শাহজালাল সুমন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইয়ুথ’র পরিচালক আমজাদ হোসেন। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইকবাল হোসেন সঞ্চালনা করেন এবং সদস্য রাশেদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক রূপম তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্চিতা চৌধুরীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।



