সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলাধীন লক্ষিপুর ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর ইজারাকৃত বালু মহাল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ডা: মো.ইলিয়াস মিয়া।
বুধবার (২৭ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদী,রাবারড্রাম,লিয়াকতগঞ্জ বাংলাবাজারসহ নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।
এসময় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করেন এবং রাবারড্রামের দু’পাশে নিরাপত্তার জন্য বাঁশের ভেরিকেট দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাক্ষাতে ডিসি ইলিয়াস মিয়া বলেন,খাসিয়ামারা নদীতে কোন ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করার সুযোগ নেই। ইজারাদারকে নিষেধ করা হয়েছে আগামী একসপ্তাহের বিতরে যেনো ড্রেজার মেশিনগুলা সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন,খাসিয়ামারা নদীতে ইজারাদারকর্তৃক নীতিমালার বহির্ভূত ভাবে বালু উত্তোলন করার কোন সুযোগ নেই। এলাকার স্থাপনা, চলাচলের সড়ক ও ফসলি জমি হতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বালু করতে হবে।
বালু উত্তোলনের ফলে রাবারড্রামের ক্ষতির বিষয় সম্পর্কে ডিসি ইলিয়াস মিয়া বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে রাবারড্রামের ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এলজিইডিকে বলা হয়েছে। ক্ষতি হয়ে থাকলে ইজারাদার রাবারড্রামের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এসময় সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ, দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) জাহিদুল হক,এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ,খাসিয়ামারা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এমন অভিযোগ সোমবার (২৫ আগষ্ট) বিকালে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে তিনটি ড্রেজার মেশিনসহ ১ জনকে আটক করে কারাগারে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এতে মঙ্গলবার সকালে এলাকায় ড্রেজার মেশিন বিরোধী সচেতন নাগরিক মহল ও ইজারাদারকপ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে সংগঠিত বিষয়টির মিমংশা করা হয়।