দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফসল চুরির ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে মো. আনছর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে মারধর এবং ৬ বছরের শিশুকে জড়িয়ে দায়েরকৃত মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা প্রত্যাহার ও জমি থেকে ফসল লুটপাটের ক্ষতিপূরণের দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টায় উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নাছিমপুর বাজারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৮ মার্চ (বুধবার) নরসিংপুর ইউনিয়নের নছরনগর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে আনছর আলী (৭০) নিজ মালিকানাধীন ফসলি জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী ক্বারী গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে ফাহমিদা আক্তার (৬) নিকটবর্তী পতিত জমিতে খেলছিল। এমন সময় একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে (ভিকটিমের চাচাতো ভাই) আলমগীর হোসেন তার সঙ্গে খেলতে শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুটি কান্না শুরু করলে আলমগীর তাকে আনছর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে প্ররোচিত করে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি পাশের জমিতে কাজ করা দৌলতপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪৯) শুনে আনছর আলীকে জানান। পরে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে চিৎকার শুরু হলে ভিকটিমের পরিবার এসে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে তখন আনছর আলীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি।
কিছুক্ষণ পর আনছর আলী ও তার ছেলে রাকিব আলী (২১) ফসলি জমির ওষুধ ও ঈদের খরচের জন্য বাজারে গেলে ভিকটিমের স্বজনদের একটি দল মব তৈরি করে রাকিব আলীকে মারধর করে আহত করে এবং আনছর আলীকে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে বাজার থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পরদিন (১৯ মার্চ) সকালে আনছর আলীর পরিবারের ফসলি জমি থেকে ফসল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয় সমছু মিয়ার ছেলে মুন্না, মৃত চমক আলী’র ছেলে ছমরু মিয়া,রফিজ মিয়া,সমছু মিয়া, শুকুর আলী’র ছেলে সাইদুর রহমান, ফয়জুর রহমান,মৃত ছুরত মিয়ার ছেলে জায়েদ মিয়া,আব্দুন নুর এর ছেলে রফিকুল ইসলাম, রুফুল মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
এর প্রতিবাদে প্রথম দফায় শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার পুনরায় আনছর আলীর মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং ৫–৬ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাছিমপুর বাজার কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন, সেক্রেটারি মোজাম্মিল আলী, সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নওশাদ জামিল, নছরনগর গ্রামের ফখরুল ইসলাম, সিরাজ আলী, নুর উদ্দিন, ফিরোজ আলী,লোকমান হোসেন, কুদ্দুস আলী,আব্দুস সালাম,নুরুজ আলী, জামাল হোসেন,সারপিন নগর গ্রামের হাজ্বী আব্দুল লতিফ,আখল আলী,নাছিমপুর গ্রামের সিদ্দেক আলী,নুরুল হক, দৌলতপুর গ্রামের আলাউর রহমান,ইউসুফ আলী,ফজর আলী,আলিমুল ইসলাম,জুনাব আলী,আব্দুল কুদ্দুস, রহিমেরপাড়া গ্রামের লাল মিয়া, সমছু মিয়া,আব্দুল জব্বার,মন্তাজনগর গ্রামের বাতির আলীসহ বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় ব্যক্তিরা।
নাছিমপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি মোজাম্মিল আলী বলেন, আনছর আলী একজন সৎ মানুষ। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দোষী হলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু একজন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধকে এভাবে হেনস্তা করা অনুচিত। পরদিন তার পরিবারের কয়েক লাখ টাকার ফসল লুটপাট করাও ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা সঠিক বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন প্রথমে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ শোনা গেলেও পরে জানা যায় এটি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা। তবে অভিযুক্তের জমি থেকে ফসল লুটপাট করা দুঃখজনক এবং একাধিক ফসল নষ্ট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ওসি তারিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, আসামি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।



