Shopping cart

প্রধান শিক্ষকের অনিহা, ফলাফলে চরম ভরাডুবিতে পোগজ 

অক্টোবর ১৭, ২০২৫

প্রধান শিক্ষকের অনিহা, ফলাফলে চরম ভরাডুবিতে পোগজ।

প্রধান শিক্ষকের অনিহা, ফলাফলে চরম ভরাডুবিতে পোগজ।

মুসফিকুর রহমান, জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) আইইআর বিভাগ সংলগ্ন পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল এ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৫ এ রেকর্ড সংখ্যাক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬ জন উপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই হয়েছেন অকৃতকার্য। যা মোট শিক্ষার্থীর শতকরা ৭২.৭৩ শতাংশ।

জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকে বিগত বছরগুলোতে এমন রেকর্ড সংখ্যাক অকৃতকার্য কখনো হয়নি স্কুলটি। আবার ২৭.২৭ শতাংশ কৃতকার্য শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ -৪.০০ ও হয়নি কারো।ফলে বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নানা মহল। এমন ভরাডুবি কারণ বিশ্লেষণে অনেকেই বর্তমান গভর্নিং বডির অক্ষমতা এবং শিক্ষকদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ১৮৪৮ সালে নিকোলাস পোগোজ প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন আপত্তিকর ফলাফল প্রথমবার হয়েছে বলে জানা যায়।

এ দিকে সন্তানকে শ্রেণী কক্ষে দিয়ে বাইরে অপেক্ষায় থাকা একজন অবিভাবক ফলাফলে অসন্তোষ জানিয়ে ইনকিলাবকে বলেন, স্কুলের একজন শিক্ষকের দায়িত্বের শতকরা হার আর পাশের হার সমান। সামগ্রিক বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি এক কান দিয়ে শুনেন অন্য কান দিয়ে বের করে দেন।

তিনি আরও বলেন, এখানে গভর্নিং বডির দায়বদ্ধতা বিদ্যমান। বছরের শুরুতে একবার অবিভাবকদের সাথে দেখা করে আর খোঁজ থাকে না। প্রধান শিক্ষক কেন এত অনিয়মের সুযোগ পাবে। প্রশ্নে হাজারও ভুল থাকে, এক চ্যাপ্টার পড়ায়, অন্যটা পরীক্ষা নেয়। এগুলোর সমাধান না করলে স্কুলের অগ্রগতি হবে না।

তবে রেজাল্ট সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার। অন ডিউটিতে তাকে ফলাফলের কথা শুনতেই বাইরে থাকার অযুহাত দেখান তিনি।

তবে কি প্রধান শিক্ষকের এমন অনিহা আর জবাবদিহিতা না থাকার কারণেই ফলাফলের ভরাডুবি স্কুলটির এমনটিই মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফলাফল ও প্রধান শিক্ষককের জবাবদিহিতা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর রেজাউল করিম বলেন, আমি অত্যন্ত আশাহত হয়েছি। বিদ্যালয়টির পড়াশোনার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এমন ফলাফলে শুধু অবিভাবক নয় বরং আমি নিজেও আশাহত।

তিনি আরও বলেন, সময় এসেছে অনিয়মের শৃঙ্খল ভেঙ্গে ফের সাজানোর। আমার জায়গা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যদি কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে অনিয়ম হয় তা উপড়ে ফেলার। একটা প্রতিষ্ঠান এমন বিশৃঙ্খলভাবে চলতে পারে না।

এ দিকে প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য মতে বিদ্যালয়টির কলেজ শাখার দায়িত্বে থাকা আব্দুল আওয়াল মোল্লার কাছে এমন ফলাফলের কথা শুনতেই যেন আকাশ থেকে পড়েন তিনি। বলেন প্রধান শিক্ষককের অনুমতি ছাড়া কোন কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ।

এ দিকে প্রধান শিক্ষকের সাথে কলেজ শাখা নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন কলেজ শাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আব্দুল আওয়াল মোল্লাকে।

তবে কোন শিক্ষককের ই যদি দায়বদ্ধতা না থাকে তাহলে বিদ্যালয়ে তাদের কাজ কি এমন মন্তব্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত যাতায়াতকারী অনেক অবিভাবকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *