দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে চুরির ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে এক বৃদ্ধকে ষড়যন্ত্র করে ৬ বছরের এক শিশুকে জড়িয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার জমির ফসল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত ১৮ মার্চ (বুধবার) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নছরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভা করেন।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয়রা জানান, নছরনগর গ্রামের ক্বারী গিয়াসউদ্দিনের ৬ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একই গ্রামের আনছর আলী (৭০)-এর বিরুদ্ধে মারধর করে মামলায় ফাঁসানো হয়। তবে এর আগে আনছর আলী একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে ( ভিকটিমের চাচাতো ভাই) আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি চুরির ঘটনায় সাক্ষ্য দেন। আলমগীর ভিকটিমের চাচাতো ভাই এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় সেই ঘটনার পর থেকেই আনছর আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন বিকেলে আনছর আলী বাজারে গেলে তাকে ধরে এনে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ভিকটিমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার স্ত্রী পদমালা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়।
পরে আনছর আলীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ভিকটিমের পরিবার এবং ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পরদিন সকালে তাদের জমি থেকে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ফসল লুটপাট করা হয়।
আনছর আলীর ছেলে ফকির আলী বলেন,“আমার বাবা একজন নামাজি মানুষ। চুরির মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। এখন তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে, আর আমাদের জমির ফসল লুট করা হয়েছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।”
আনছর আলীর স্ত্রী পদমালা বেগম বলেন,“আমার স্বামীকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। ফসল লুটপাট করা হয়েছে। ৬ বছরের একটি শিশুর সঙ্গে আমার স্বামী এমন কাজ করতে পারেন না।”
তিনি আরও বলেন,“যদি আমার স্বামী অপরাধী হন, আমরা বিচার চাই। আর যদি নির্দোষ হন, তাহলে যারা তার সম্মান নষ্ট করেছে এবং আমাদের ক্ষতি করেছে তাদের শাস্তি চাই।”
নাছিমপুর বাজার কমিটির সেক্রেটারি মোজাম্মিল আলী বলেন,
“আনছর আলী একজন ভালো মানুষ। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে একজন বৃদ্ধকে এভাবে লাঞ্ছিত করা ঠিক হয়নি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়েজ উদ্দিন জানান,“প্রথমে ধর্ষণের কথা বলা হলেও পরে জানা যায় এটি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ।”
এদিকে এদিকে ফসল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা মিথ্যা দাবি করে ভিকটিমের পিতা ক্বারী গিয়াসউদ্দিন বলেন,“আমার মেয়ের সঙ্গে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মতিউর রহমান বলেন,“মেয়েটিকে ধর্ষণের শিকার বলা হলেও প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দোয়ারাবাজার থানার এসআই জলিল জানান,”ধর্ষণর চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধকে মারধর করে আটকে রাখে। পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয় ।মেডিক্যাল রিপোর্টের পর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফসল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাংচুরের বিষয়ে তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।



