নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমেরও ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ আহত পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সুজন মোল্লা বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় ডিবি পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাদের খুঁজে বেড়াত এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তিনি দাবি করেন, ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছয়টি ব্যারিকেড অতিক্রম করে টিএসসিতে পৌঁছান। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে তিনি বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হন এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুজন মোল্লা বলেন, “দুইবার গুলির হাত থেকে বেঁচে গেলেও তৃতীয়বার আমার বাম চোখে গুলি লাগে। সেই আঘাতে আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি এবং এখনো চিকিৎসা নিচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ব্যবহার করে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন। তার ভাষায়, “যাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে, তারাই এখন জুলাই আন্দোলনের মালিকানা দাবি করছে।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের নাম উল্লেখ করে সুজন মোল্লা বলেন, “ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হাসনাত-সারজিসদেরও ভূমিকা রয়েছে। তাদের ভূমিকা তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।



