দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ):
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল মদিনা একাডেমির মেধাবী শিক্ষার্থী মারুফ হাসান জয়।
একাডেমির সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হন। তাঁর পছন্দের বিষয় Electrical and Electronic Engineering (EEE) নিয়ে পড়াশোনা এবং পারমাণবিক শক্তি নিয়ে গবেষণা করার আগ্রহ থেকেই তিনি চুয়েটে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের যাত্রা শুরু হয়।
একাডেমির কৃতী শিক্ষার্থী মারুফ স্থানীয় বালিউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নরসিংপুর গ্রামের বাসিন্দা ফখর উদ্দিনের বড় ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রথম নরসিংপুর ইউনিয়নের কোনো শিক্ষার্থী দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিকূল পরিবেশ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং মফস্বলের তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থার নানা বাধা অতিক্রম করে তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এলাকার মানুষ গর্বিত ও আনন্দিত।
মারুফ হাসান আল মদিনা একাডেমি থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেন। এছাড়া নরসিংপুর সমাজকল্যাণ সংস্থা (নসকস)-এর ট্যালেন্টপুল বৃত্তিও লাভ করেন। করোনাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি আল মদিনা একাডেমি থেকে বিদায় নেন।
পরবর্তীতে তিনি সিলেট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করে মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
মারুফ হাসান জয় বলেন, “আমি ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। তবে আমার ইচ্ছা পারমাণবিক শক্তি নিয়ে গবেষণা করার। সেই আগ্রহ থেকেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) Electrical and Electronic Engineering (EEE) বিভাগে ভর্তি হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা শেষে অবসর সময়ে আমি আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ির প্রতিষ্ঠান আল মদিনা একাডেমিতে ভিজিটিং টিচার হিসেবে কিছু সময় দায়িত্ব পালন করেছি। আজকের এই অর্জন আমার শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পিতা-মাতার অবদানের ফল।”
শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে মারুফ বলেন, “আমি যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পিতা-মাতার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি এবং ভবিষ্যতে আমার এলাকা ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারি—এই লক্ষ্য নিয়েই নতুন যাত্রা শুরু করেছি। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া কামনা করছি।”



