জবি প্রতিনিধি: দীর্ঘ আন্দোলনের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ বৃত্তির চেক হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে মনোনীত সব শিক্ষার্থীর কাছে বৃত্তির চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। ১৫তম ব্যাচ থেকে শুরু করে ২০তম ব্যাচের মোট ১ হাজার ১৬৪ জন শিক্ষার্থী এই বিশেষ বৃত্তির আওতাভুক্ত হয়েছেন।
উদ্বোধনী দিনে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর সৌজন্যে শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তির প্রতীকী চেক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন আন্তরিক। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।” তিনি মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, “বৃত্তির অর্থ সময়মতো বণ্টন করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি অনুষদের ডাটাবেজ নিখুঁতভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যেন কোনো শিক্ষার্থী জটিলতায় না পড়ে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তীব্র আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করে আসছিলেন। গত বছর শিক্ষার্থীদের ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ৫৬ কোটি টাকার একটি বিশাল আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এই সম্পূরক বৃত্তি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হলো।
চেক হস্তান্তর নিয়ে জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আবাসন সংকট জবি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এই বিশেষ বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই লাঘব করবে।”
জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবির ফলেই আজ এই বৃত্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে খুব শীঘ্রই বাকি টাকা দ্রুত বিতরণের জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।”
সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, কেবল এই বৃত্তিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন একই সাথে টিএসসি সংস্কার, নতুন হলের নির্মাণ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মেগা প্রজেক্টের কাজও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে।



