Shopping cart

  • Home
  • সারাদেশ
  • পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ দোয়ারাবাসী, ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টায় থাকে অন্ধকার

পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ দোয়ারাবাসী, ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টায় থাকে অন্ধকার

এপ্রিল ১৬, ২০২৬

পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ দোয়ারাবাসী, ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টায় থাকে অন্ধকার।

পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ দোয়ারাবাসী, ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টায় থাকে অন্ধকার।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ জনসাধারণ, ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টায় বিদ্যুৎ বিহীন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার বাসিন্দারা। বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে স্কুল-মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুতের ঘন ঘন এন লোডশেডিংয়ে কখনো কখনো টানা ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের।

২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। ৬ ঘন্টা বিদ্যুতের আলো দেওয়া হয়,তাও আবার ১৫-২০ মিনিট করে। এতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে চলতি মাসের ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া বোর্ড পরিক্ষা এসএসসি ও দাখিল পরিক্ষার্থীরা এবং পঞ্চম শ্রেনীর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ লাইন ও ট্রান্সফরমারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সমাধানে চলে গড়িমসি। বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে দ্রুতই সাড়া পাওয়া যায় না। ফলে দোয়ারাবাজারবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহকেরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংযোগের প্রথম দিকে ভালো সেবা পেতেন গ্রাহকেরা। তবে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি নিম্নমুখী সার্বিস দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ। ফলে পল্লি বিদ্যুতের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট গ্রাহক। আর সীমাহীন ক্ষতির অভিযোগ।

নরসিংপুর এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগের শুরু দিকে ভালো সেবা পাওয়া যেত। তবে সম্প্রতি সেবার মান খুব বাজে। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার মধ্যে রয়েছে। এক নাগাড়ে ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’ বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে গড়ে ৪৫-৫০% বিদ্যুৎ সার্বিস দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তা ভিন্ন। ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টা থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন।

দোয়ারাবাজার এলাকার দশমশ্রেনীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ফাহিম আহমদ বলেন, ‘ বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। ২১ এপ্রিল আমাদের এসএসসি পরীক্ষা। গত প্রায় ২ মাস যাবত বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারনে সন্ধার পরে পড়তে পারিনা। দিনের বেলায় কোন রকম একটু পড়ায় বসলেও সন্ধার পরের সময়টা নষ্ট হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে আমরা পরিক্ষা দিব কিভাবে। রাতে কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা টানা বিদ্যুৎ সার্বিস দিলেও আমরা পড়তো পাড়তাম।

আমরা দ্রুত এই সমস্যার নিরসন চাই।’ একই অভিযোগ করেছেন উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহক। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বেশি দুর্দশায় পড়েছে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। গত একমাস যাবত দিনের বেলায় যেমন বিদ্যুৎ থাকছেনা, সন্ধার পরেও তেমনি বিদ্যুতের দেখা মিলছেনা। কিন্তু বিল ঠিকই দেওয়া হচ্ছে। অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করাতে পারছেনা বিদায় বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য বার বার ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করছে। কিন্তু আমাদের হাতে তো কিছু নেই। এই সমস্যা সমাধানে পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

তবে পল্লি বিদ্যুতের এই সমস্যা স্বীকার করছে কর্তৃপক্ষ। তবে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের জন্য নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন সুনামগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মিলন কুমার কুন্ডু। তিনি বলেন, ‘ শুধু দোয়ারাবাজারে নয় পুরো অঞ্চলের একই অবস্থা। ৪০-৪৫ % বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। যার কারনে লোডশেডিং হচ্ছে ৫৫-৬০%।

ভৌগোলিক কারণে কিছু সমস্যা হয়ে থাকে। ফলে সেবা দিতে বিলম্ব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *