কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কোষাধ্যক্ষ ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমানকে “ল্যাংটা সোলেমান” বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনকে “ল্যাংটা করার” হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ফেসবুক পোস্টে কোশাধ্যক্ষকে উদ্দেশ্যে শুভ লিখেন, “কুবি জামাত ভিসি হায়দার ও জামাত কোষাধ্যক্ষ ল্যাংটা সোলেমানের অপরাধ, অনিয়ম, দুর্নীতির মতো অপরাধে অভিযুক্ত। তথ্য পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সকল অপকর্মে জড়িত বর্তমান কুবির জামাতের প্রশাসন।”
পোস্টে তিনি আরও লিখেন, “বর্তমান কুবির জামাত ভিসি হায়দার (জনগণের এনআইডি তথ্য পাচার মামলার আসামি, জয়ের সহচর) ও কোষাধ্যক্ষ সোলেমানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইউজিসির কাছে পাঠানো চিঠি।”
অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপিপন্থি শিক্ষক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের (সাদা দল) হয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ২০২৩ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শাহিনুর ইসলামের স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের শর্তে বলা হয়, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার হিসেবে তাঁদের নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে চার বছর হবে। এই পদে তারা বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। এছাড়াও বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
কিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসলে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভসহ একাধিক নেতাকর্মী দপ্তরে দপ্তরে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখার জন্য হুমকি হুমকি দিয়ে আসছেন।
গত সোমবার (৩০ মার্চ) উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের দপ্তরে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “ল্যাংটা সোলাইমান কোনো বিষয় না, সে যে অন্যায় করছে দুর্নীতি করছে সেগুলো নিয়ে কথা বলো। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত অপরাধী অনিয়মকারী টেন্ডার বাণিজ্যকারী নিয়োগ বাণিজ্য কারীকে অবশ্যই বলতে পারি।” এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ সোলাইমান কোনো বিএনপিপন্থী শিক্ষক নয় বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “আমি শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। শিক্ষক সমিতি গঠনের পর থেকে সাদা দলের নির্বাচন করছি। নেতৃত্বেের নাম ধরে এসব নোংরামি করলে নিঃসন্দেহে জাতীয়তাবাদী সংগঠনের জন্য খারাপ। এরা এটা কেন করছে জানিনা।” অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি কোন অভিযোগ থেকে থাকে সেটা আইনিভাবে সমাধান না করে এভাবে হেনস্তা করার মানে হয়না।”
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।



