ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পাপলু মিয়া
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিনের নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল।
অবশেষ জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ড্রেজার জব্দসহ ৯ জন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানার সীমান্তবর্তী ‘কলাবাগান’ এলাকায় একটি প্রভাবশালী ড্রেজার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং একের পর এক বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে।
ভিটেমাটি রক্ষায় স্থানীয় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
গ্রামবাসীর এই যৌক্তিক দাবির মুখে আজ সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ও আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কলাবাগান এলাকায় এক বিশেষ ও দুর্ধর্ষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ক্রুদ্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত ৯ জন আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় এবং অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ২১টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ৯ জন আসামিই সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বাসিন্দা: সাদেক মিয়া (২২), পিতা- মৃত মোহাম্মদ আলী (দক্ষিণ ঢালারপাড়) হোসেন মিয়া (৩৩), পিতা- মৃত সবুজ মিয়া (খায়েরগাঁও) জাহাঙ্গীর আলম (২৭), পিতা- মৃত মমতাজ আলী (ইসলামপুর) সুমন মিয়া (৩১), পিতা- মো. তৌফিক মিয়া (ইসলামপুর) তোফাজ্জল হোসেন (২৬), পিতা- মৃত জিল্লু মিয়া (মধ্য রাজনগর) ফরিদ উদ্দিন (৩১), পিতা- ইন্তাজ মিয়া (মোস্তফানগর) রাজ্জাক মিয়া (৩১), পিতা- মৃত আলিম উদ্দিন (মোস্তফানগর) তারেকুল ইসলাম তারেক (২৭), পিতা- তারা মিয়া (নয়া গাঙ্গেরপাড়) মো. সেলিম মিয়া (৩০), পিতা- মো. মনির মিয়া (টুকেরগাঁও)
অভিযানের বিষয়ে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান,
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছিল। গ্রামবাসীর আন্দোলনের পর আমরা তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। নদী, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় জনতার সাহসী পদক্ষেপ ও প্রতিরোধের মুখে অবৈধ ড্রেজার চলাচল বন্ধ হওয়ায় সীমান্ত এলাকার নদীপাড়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



