Shopping cart

  • Home
  • শিক্ষাঙ্গন
  • এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সার্বজনীন বদলী অবসান ঘটাতে পারে শিক্ষকদের একাধিক গ্রুপিং ও শত্রুতার

এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সার্বজনীন বদলী অবসান ঘটাতে পারে শিক্ষকদের একাধিক গ্রুপিং ও শত্রুতার

নভেম্বর ১৩, ২০২৫

এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সার্বজনীন বদলী অবসান ঘটাতে পারে শিক্ষকদের একাধিক গ্রুপিং ও শত্রুতার।

এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সার্বজনীন বদলী অবসান ঘটাতে পারে শিক্ষকদের একাধিক গ্রুপিং ও শত্রুতার।

শেখ ইমতিয়াজ মাহমুদ, প্রভাষক কৃষি শিক্ষা, বড়খাল বহুমুখী স্কুল ও কলেজ, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ: এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল জনবল নিয়োগ দেয়া হতো কমিটির মাধ্যমে। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতাটি কমিটির হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়।

দায়িত্ব দেয়া হলো এনটিআরসিএ এর হাতে। এনটিআরসিএ ১ম নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩০ আগস্ট থেকে ২০১৬ সালে। ১ম দিকে সকল ইনডেক্সধারী আবেদনের সুযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারতেন। পরবর্তীতে বেকার নিবন্ধনধারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইনডেক্সধারীদের আবেদনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

তবে গণবিজ্ঞপ্তিতে নিবন্ধনধারী শিক্ষকগণ প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও কমিটির নিয়োগে সনদবিহীন ইনডেক্সধারী শিক্ষকগণ এই পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পাননি। এখান থেকেই সূচনা হয় শিক্ষকদের বদলী গ্রুপিং। এরপর ২০২২ সালের ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারীদের আবেদন সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ পর্যায়ে সনদধারী ও সনদবিহীন উভয় ইনডেক্সধারীই এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ হারায়। এবার বদলী গ্রুপিং আরও চাঙ্গা হয়, শুরু হয় শত্রুতা, এক পর্যায়ে এমন অবস্থা হয় যে – এনটিআরসিএ সুপারিশ প্রাপ্ত শিক্ষক ও কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একে অপরের বদলী পথের শত্রু।

এই শত্রুতা সৃষ্টি করলো এনটিআরসিএ এবং তৎকালীন সরকার। নিয়োগ যখন এনটিআরসিএর হাতে দিলো সমস্যা নেই, যখন ৭নং ধারা চালু করলো মানে যখন পরোক্ষভাবে শুধু সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলীর সুযোগ দেয়া হলো তখন থেকেই এই শত্রুতা শুরু হলো।

কমিটির নিয়োগের শিক্ষকদের অনেকেই দাবি করেন যে নিজ জেলা/উপজেলায় পোস্ট ফাঁকা না থাকায় এবং কমিটিকে মোটা অংকের টাকা না দিতে পারায় নিজ জেলা /উপজেলা থেকে ২০০/৩০০/৭০০ কিমি দূরে জব নিয়েছি। এখন আমাদেরকে ব্ঞ্চিত করে বদলী কেনো চলু করা হবে? আবার এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত দের দাবি হলো আমরা গণবিজ্ঞপ্তি তে ৪০ টি প্রতিষ্ঠান পছন্দ তালিকায় দিয়েছি।

কিন্তু পোস্ট ফাঁকা না থাকায় নিজ জেলা থেকে ওই ২০০/৩০০/৫০০/৭০০ কিমি দূরে জব করছি। ২০২৪ সালের বদলী নীতিমালা শুধু সুপারিশ প্রাপ্তদের বদলীর কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া কমিটির নিয়োগে অনেক শিক্ষকের সাবজেক্ট, পদ, পদবী ইত্যাদিতে ভুল আছে তাই তাদের নিয়ে সার্বজনীন বদলী চালু সম্ভব নয়।

এই কথার জবাবে কমিটির নিয়োগে শিক্ষকগণ বলছেন যে যাদের সাবজেক্ট পদ পদবী ভুল আছে তাদের পদবী সংশোধন সাপেক্ষ তারা বদলীর আওতায় আসবে তাই বলে সার্বজনীন বদলী চালু নয় কেনো? এভাবেই ফেসবুকে মন্তব্য দ্বন্দ, গালিগালাজ ইত্যাদি।

এখন সার্বজনীন বদলী চালুর রব উঠেছে, রিট হয়েছে আদালতের রায় হয়েছে সার্বজনীন বদলী চালুর। ২০২৫ সালে এখন সার্বজনীন বদলী চালুর জন্য ইন্টেরিম সরকার এই রায় বাস্তবায়নের কথা আমলে নিয়ে সার্বজনীন বদলীর পথেই হাটছে। তবু যেনো শত্রুতার তরী থেমে নেই। ( সর্বশেষ সার্বজনীন বদলীর গ্রহণযোগ্য যে মানদণ্ড হচ্ছে তা হল দূরত্ব, নারীকোঠা ও সিনিয়রিটি, প্রতিবছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান থেকে ২ জন শিক্ষক ও স্কুল এন্ড কলেজের ক্ষেত্রে প্রতি শাখা থেকে ২ জন করে মোট ৪ জন বদলীতে আনেদনের সুযোগ পাবে)। টেলিটকের সাথে সরকারের সার্বজনীন বদলীর চালুর ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।

সার্বজনীন বদলীর সফটওয়্যার তৈরির চুক্তি ও সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয় এখন সার্বজনীন বদলী নীতিমালা প্রকাশের দারপ্রান্তে। তীরে এসে তরী না ডুবুক এটাই ইন্টেরিম সরকারের কাছে প্রত্যাশা। আপনারা অনেক সংস্কার করেছেন। এটাও করে ধন্য হয়ে থাকবেন এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের হৃদয়ের মাঝে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *