সোহেল মিয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং পদত্যাগের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছেন পরীক্ষার্থীরা। এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপত্রের মান ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিজনিত ভোগান্তির প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সুনামগঞ্জ পৌরশহরে ট্রাফিক পয়েন্টে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি তুলে ধরে আল্টিমেটাম দেন।
আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা বলেন, পরীক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো বিবেচনা না করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থী আমিনুর রহমান পরান, আদনান ফুয়াদ নাবিল, জামিল আহমদ নাঈম, আবদুর রহমান পায়েল, আহসান হাবীব আরাফাত, আব্দুল্লাহ নাঈম, আহসান হাবীব, মারুফ বিল্লাহ, রায়হান, সাকিব
নিয়ন, মাসুম, সাইফ আহমেদ।
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাসহ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীকে পানি, কাদা পেরিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। কেউ কেউ নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। অনেকে আবার পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
তারা বলেন, যতদিন জলাবদ্ধতা থাকবে, যতদিন বন্যা পরিস্থিতি থাকবে এবং আবহাওয়া পরীক্ষার অনুকূলে না আসবে, ততদিন পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনা করেননি।
আন্দোলনকারীরা আরো অভিযোগ করেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। ভুল প্রশ্নপত্র তৈরির সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে যথাযথ তদন্তপূর্বক বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানান পরীক্ষার্থীরা। তারা বলেন, কঠিন প্রশ্ন নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে পরীক্ষার্থীরা যে পাঠ্যসূচিতে প্রস্তুতি নিয়েছে সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
এছাড়াও গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় উপস্থিত হতে পারেনি তাদের বিষয়ে বিবেচনা করে অতি দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান দাবি করেন তারা।
আল্টিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন,
অথর্ব শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে।বৈষম্যহীন পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ,আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত,বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া, শুধুমাত্র পরীক্ষার দিকে জোর না দিয়ে পড়ার দিকে জোর দিতে হবে।


