Shopping cart

  • Home
  • বাংলাদেশ
  • অন্যান
  • কাউন্সিলর খালেদা আলমকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী

কাউন্সিলর খালেদা আলমকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

কাউন্সিলর খালেদা আলমকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী।

কাউন্সিলর খালেদা আলমকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অনেক স্থানে স্বাভাবিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছিল না, ঠিক সেই সময় দলীয় অনুমতি নিয়ে এলাকায় গণমানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে উঠে আসেন খালেদা আলম।

তিনি ঢাকা-৪ আসনপর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী আসনে ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে টানা তিনবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।

একজন সাধারণ নারী থেকে জননেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে তার শিক্ষা, মেধা, পরিশ্রম ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি শুধু সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নিজের আচরণ, কর্মনিষ্ঠা ও সেবামূলক মানসিকতার মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন “জনগণের কাউন্সিলর”।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, জনসেবা ও নাগরিক সেবার নিশ্চয়তা চাইলে খালেদা আলমের কাছে গেলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। তার দরজা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমানভাবে খোলা। ধনী-গরিব, দল-মত নির্বিশেষে সবার কথা তিনি শোনেন এবং সাধ্যের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করেন।

৫২ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশাচালক আলাল (৫৭) বলেন, খালেদা আলমের কাছে গেলে কোনো ভেদাভেদ নেই। কয়েকবার কাজে গিয়েছি, বসিয়ে চা-বিস্কুট খাইয়ে সম্মান দিয়ে কাজ করে দিয়েছেন। অন্য জায়গায় গেলে নানা অজুহাতে টাকা লাগে, কিন্তু তার কাছে সেবা পেতে টাকা লাগে না।

৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসরিন সুলতানা বলেন, তার জনপ্রিয়তা বোঝা যায় বিগত দিনের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফলেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও তাদের প্রার্থী বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। পরপর তিনবার তিনি নির্বাচিত হয়েছেন মানুষের ভালোবাসায়। আমরা চাই তাকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হোক।

মুরাদপুর হাইস্কুলের শিক্ষক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও খালেদা আলম তার মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে টানা তিনবার সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা-৪ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমরা শিক্ষক সমাজ চাই, তিনি সংসদে গিয়ে আমাদের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করুন।

কদমতলী থানার দোলাইপাড় এলাকার সাবেক বে-সরকারী কর্মকর্তা ও বয়োজ্যেষ্ঠ আমিনুল হক (৮০) বলেন, রাজধানী ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ— ঢাকা-৪ (জুরাইন-পোস্তগোলা) এবং ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী)— এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় বিএনপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এই এলাকাগুলো কার্যত রাজনৈতিকভাবে শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে বিএনপির একজন সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী থাকলে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা আরও উৎসাহিত ও উপকৃত হতেন। অতীতে খালেদা আলম তাঁর অবস্থান থেকে এলাকাবাসীর উন্নয়নে সাধ্যের চেয়েও বেশি কাজ করেছেন। অনেক রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে ড্রেনেজের ময়লা পরিষ্কার এবং ড্রেন সংস্কারের কাজ তদারকি করেছেন।

আমিনুল হক আরও বলেন, ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ এলাকার জনগণের প্রত্যাশা, খালেদা আলমকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে দল এবং এলাকার মানুষ উভয়েই উপকৃত হবে।

কারণ তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যেভাবে আগে কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও ঠিক সেভাবেই এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখবেন।

বর্তমানে খালেদা আলম বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কদমতলী থানার যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকেছেন, নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বড় কোনো পদ বা ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে তার সহকর্মীরা জানান।

খালেদা আলম বলেন, পদ-পদবি বড় বিষয় নয়, দলের আদর্শই আমার কাছে মুখ্য। আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়, সেটি হবে আমার জন্য গর্বের বিষয়। না দিলেও কোনো আফসোস থাকবে না। দলই শেষ কথা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও ধারাবাহিক জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে খালেদা আলমকে আগামীতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তাদের বিশ্বাস, তিনি সংসদে গেলে এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *