নির্বাচিত হলে আমার ছোট ভাইবোনেরা আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকে সম্মুখীন হওয়া সমস্যাগুলো যেন মোকাবিলা করতে না হয় সেদিকে সচেতন থাকবো: রাকিব মাজহার।
জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০ তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থী মো. রাকিব মাজহার।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) শহীদ সাজিদ ভবনে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তিনি মনোনয়ন জমা দেন। রাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মনোনয়ন সংগ্রহের পর রাকিব বলেন, “স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়ন নিয়েছি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার জন্য।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি,কখনো সামনের সারিতে কখনো বা পিছনে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি আমার জবিয়ান ভাই বোনেরা যথেষ্ট মেধাবী এমনকি অন্য ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদাভাবে চিন্তা করে আর এটা শিখিয়েছে এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় । সুতরাং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ও সেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে।
তিনি আরও বলেন, আমি যেহেতু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সংগঠনের কেউ নই। তাই নির্বাচিত হলে আমার ডিসিশন মেকার হিসেবে কাজ করবেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী। বলা যায় তারাই আমার নেতা আমি তাদের প্রতিনিধি।
উল্লেখ্য, ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৩ নভেম্বর চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ১৬–১৭ নভেম্বর চলবে মনোনয়নপত্র বিতরণ। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৯–২০ নভেম্বর বাছাই, এবং ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে। ২৪–২৬ নভেম্বর আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তির পর ২৭ ও ৩০ নভেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট নেওয়া হবে। ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর; প্রত্যাহারকৃত তালিকা প্রকাশ হবে ৯ ডিসেম্বর। ৯–১৯ ডিসেম্বর চলবে প্রচারণা। ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ ও গণনা অনুষ্ঠিত হবে, এবং ২২–২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মো. রাকিব মাজহারের নির্বাচনী ইশতেহার-
১.দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি ও তদারকিতে জকসুর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত।
২.শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের জরাজীর্ণ সিড়ি দ্রুত মেরামতে প্রশাসনের সাথে নিয়মিত ফলো-আপ।
৩.রফিক ভবনের বেহাল অবস্থা দূরীকরণ—রেনোভেশন, আলো, নিরাপত্তা জোরদার।
বিভিন্ন বিভাগে নষ্ট ওয়াশরুম বেসিন ও পানির সমস্যা দ্রুত সমাধানের চাপ সৃষ্টি।
৪.গবেষণামূলক পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও রিসোর্স সংগ্রহে অগ্রাধিকার।
৪.ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের জন্য নিয়মিত ক্লাসরুম নিশ্চিত।
৫.কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ আধুনিকায়ন—সবুজ মাঠ পুনরুদ্ধার, সিটি করপোরেশনের জায়গা ডিভাইডার দিয়ে আলাদা করা। মাঠের বেহাল দশা দূরীকরণ।
৬.ভাঙ্গা–ফরিদপুর রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ।
৭.ক্যাম্পাসে ক্লাস চলাকালে যেসব মিছিল/কর্মসূচি পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায়—তা রোধে জকসুর সক্রিয় পদক্ষেপ।
৮ একাডেমিক সুবিধা ও শিক্ষায় সমতা আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটে নতুন ভাষাভিত্তিক কোর্স চালুর উদ্যোগ (চাইনিজ, কোরিয়ান, স্প্যানিশ, আরবি, জাপানিজ,ইংরেজি, ফরাসি ইত্যাদি)।
৯. শিক্ষক নিয়োগে জবিয়ানদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রাধান্য নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন।
১০.সম্পূরক বৃত্তি বৃদ্ধি ও আবাসন ভাতাসহ যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ বৃত্তি প্রদান নিশ্চিত।
১১. দখলকৃত হল পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা।
১২.একমাত্র নারী শিক্ষার্থী হলের সুযোগ, সেবা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
১৩.নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস–বাস–হল–ক্লাসরুমে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত।
১৪.সকল ধর্মের ভাই-বোনদের জন্য ক্যাম্পাসে প্রার্থনাস্থলের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত।
১৫.অনিয়ম, হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।
১৬. দূর্ঘটনাপ্রবণ ভবনগুলো দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা।
১৭.ক্যাম্পাসের আশেপাশে চাঁদাবাজি মুক্ত রাখতে দৃঢ় সংকল্প।
১৮.আইটি সেল এবং ক্যারিয়ার ক্লাবের সুযোগ বৃদ্ধি।
১৯. অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তি প্রদান।
২০. একমাত্র ক্যান্টিনে খাবার মান বৃদ্ধি।
তিনি আর আরও বলেন,আমার লক্ষ্য পুরোপুরি শিক্ষার্থী নির্ভর একটা ক্যাম্পাস গঠন।কোনো দল নয়—পুরো জবিই পরিবারই,আমার একমাত্র শক্তি।স্বার্থ নয়—শিক্ষার্থীদের অধিকারই আমার অঙ্গীকার।এই যাত্রায় আমার পাশে থাকুন।সমর্থন দিন।



