এক অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫
এম. কে. সাদি: জীবনের স্মৃতির ভাণ্ডারে আজকের দিনটি জুড়ে রইল অমূল্য রত্নের মতো। একজন খ্যাতিমান অথচ নিরহংকার মানুষের সান্নিধ্যে কাটানো কিছু মুহূর্ত হয়ে উঠল গভীর শিক্ষার অভিজ্ঞতা। তিনি ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী— শিক্ষাবিদ, মানবপ্রেমিক, আর সবার আগে একজন সত্যিকারের মানুষ।
প্রথম দর্শনে যে চমক— ক্ষমতার চিহ্ন বা জাঁকজমকের কোনো ছাপ নেই, শুধু এক কোণে রাখা সাধারণ একটি চেয়ার-টেবিল। অথচ সেই সাধারণতার আড়ালে লুকিয়ে আছে মহত্ত্বের মহিমা। নম্রতায়, আন্তরিকতায় আর স্নেহে তিনি ভেঙে দেন প্রথম ভুল ধারণা।
কথোপকথনের ফাঁকে জানা গেল, ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে তিনি প্রতিদিন লড়াই করছেন। তবুও নিয়মিত আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছাত্রদের সঙ্গে থাকেন, সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ান। আর্থিক অভাবে যাদের পড়াশোনা থেমে যাওয়ার কথা, তাদের হাতে তুলে দেন পূর্ণ বৃত্তি। ক্যান্টিনের কর্মীর সন্তান থেকে শুরু করে এতিম ছাত্রছাত্রী— সবার জন্য তাঁর দ্বার খোলা। তিনি বলেন আমি যা করি তা কোন ভাবেই আমার নয়,মানুষের প্রাপ্য আল্লাহ আমার কাছে গচ্ছিত রেখেছেন মাত্র ।আমি কে মানুষের জন্য কিছু করার, আল্লাহই তো সব।শোনার পর মনে হলো, শিক্ষা এখানে শুধু জ্ঞান নয়, মানবতার আলোও ছড়িয়ে দিচ্ছে।গাছ,গাছালি,ঘাস,ফুল এগুলো যেন তাঁর সন্তানের মতো।প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ।তাঁর মাঝে কোনো গুষ্টি,দল বা ধনী দরিদ্রের কোন প্রভাব নেই ।সবাই তাঁর আপন।বুঝলাম,সকল ধরনের ছাত্ররা তাঁকে অসম্ভব ভালোবাসে, সম্মান করে, আপনজন ভাবে।
ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ানোর সময়, নামাজের ডাক এল। অবাক হয়ে দেখলাম— তাঁর অফিসঘরই আপাতত মসজিদ। নামাজ শেষে তিনি বললেন,”মহানবী (সা.) মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাহলে আমি মসজিদে বসে কেন অফিস করতে পারব না?”
শব্দগুলো কেবল উত্তর ছিল না, ছিল এক গভীর বোধের আলো।
চায়ের আড্ডায় তিনি আরেকটি কথা বললেন, যা হৃদয়ে অমোচনীয় দাগ কেটে দিলো—
“প্রতিটি প্রাণীর সন্তান নিজের মতোই হয়; বিড়ালের বাচ্চা বিড়াল হয়, বাঘের বাচ্চা বাঘই হয়। কিন্তু শুধু মানুষের সন্তানকে মানুষ করতে হয়।”
এই উপলব্ধি যেন তাঁর সমগ্র জীবনের সাধনা।
ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী কোনো নাম নয়— তিনি এক আদর্শ, বিনয়ের মধ্য দিয়ে মহত্ত্বের জীবন্ত উদাহরণ।
আল্লাহ তাঁকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘজীবন দিন, আর তাঁর হাত দিয়ে মানবতার প্রদীপ আরও বহু দূর পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিন।
Comment (1)
প্রফেসর ড. মো : নজরুল হক চৌধুরী
প্রতিবেদক জনাব ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী সম্পর্কে যা লিখেছেন, তা শতভাগ সত্য । উনার সম্পর্কে আরো অনেক কিছু লিখার আছে, প্রতিবেদককে হয়তো বাস্তব কারণেই সংক্ষেপ করেতে হয়েছে । স্যারের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও দোয়া আর সম্মানিত প্রতিবেদককে অসংখ্য ধন্যবাদ ।