আহমদ বিলাল খান: শহীদ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হল নামকরণ এবং তার পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম বলেন, শহীদ মনির শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ও আধুনিকতার প্রতীক। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। অথচ তার পরিবার আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা চাই, শহীদ মনিরের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে মেডিকেল কলেজের একটি হল তার নামে নামকরণ করা হোক এবং তার পরিবারকে সরকারি চাকরি ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যখনই শিক্ষা ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। শহীদ মনিরের আত্মত্যাগ পাহাড়ে শিক্ষা ও আধুনিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
এ সময় হাবিব আজম আরও বলেন, পাহাড়ের যেকোনো মানুষের ওপর নির্যাতন বা নিপীড়ন হলে সে বাঙালি হোক কিংবা পাহাড়ি; পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ অতীতেও তাদের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাবে।
সমাবেশে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রাক্কালে জেএসএসের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের হামলায় শহীদ হন মনির হোসেন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয়। অথচ দীর্ঘদিনেও হত্যার বিচার হয়নি এবং তার পরিবার আজও রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
সমাবেশ শেষে পিসিসিপির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়-
১) শহীদ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হলের নামকরণ,
২) তার পরিবারকে সরকারি চাকরি ও পুনর্বাসন,
৩) হামলায় গুরুতর আহত জামাল হোসেনকে ক্ষতিপূরণ,
৪) মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।



