কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সংগঠন “ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সে” এর উদ্যোগে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের চার জেলার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির (বার্ড) রিসার্চ ডিভিশনের পরিচালক সালাউদ্দিন ইবনে সায়েদ এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোণা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম মাহবুব হোসেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে অতিথিবৃন্দ শিক্ষাজীবনে লক্ষ্য নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম মাহবুব হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন পর ২০১৮ সালের পর আমরা চার জেলা একসাথে একটি প্রোগ্রাম করতে পেরেছি, এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের এলাকার অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যা আমাদের সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গা। নবীনদের বলবো, তোমাদের যে স্বপ্ন আছে সেদিকেই লক্ষ্য রাখবে এবং শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ বিভাগের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।”
বার্ডের রিসার্চ ডিভিশনের পরিচালক সালাউদ্দিন ইবনে সায়েদ বলেন, “ময়মনসিংহ বলতে আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো পরিচয় হলো ভাষা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভাষা আমাদের সবাইকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। একইভাবে এই অঞ্চলের সংস্কৃতিও অত্যন্ত সমৃদ্ধ জামালপুর, নেত্রকোণা কিংবা কিশোরগঞ্জ সব জায়গারই নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। এসব বিষয় জানতে আমাদের কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে।”
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি দুটি কথা বলবো। প্রথমত “লাভ ইট অর গিব ইট”। আপনি যে বিষয়টি পড়ছেন সেটিকে ভালোবাসার চেষ্টা করুন, নইলে নিজের ক্ষতিই হবে। দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরি। সিদ্ধান্ত কখনো নিজে থেকে সঠিক হয় না, সেটাকে সঠিক প্রমাণ করতে হয়। সিদ্ধান্তে অটল থেকে পরিশ্রম করলে তবেই তা সফল হয়।”
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।



