Shopping cart

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতার বোন বিএনপির নারী আসনে মনোনয়ন গ্রহণ 

এপ্রিল ১১, ২০২৬

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতার বোন বিএনপির নারী আসনে মনোনয়ন গ্রহণ।

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতার বোন বিএনপির নারী আসনে মনোনয়ন গ্রহণ।

জবি প্রতিনিধি: গুম হওয়া পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ‘মায়ের ডাক’-এর অন্যতম সদস্য ও সাহসী সংগঠক নুসরাত জাহান লাবনী এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তিনি এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। শেরপুর ও জামালপুর জেলার জনগণের পক্ষে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নুসরাত জাহান লাবনী ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। সংগঠনটি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এর আগে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলিও মায়ের ডাকের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

লাবনী ব্যক্তিগতভাবেও গুমের শিকার একটি পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই মাজাহারুল ইসলাম রাসেল (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সাজেদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন। সেই ঘটনার পর থেকে পরিবারটি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং লাবনী নিজে রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শেরপুর ও জামালপুর জেলার বিএনপির নেতাকর্মী এবং গুম হওয়া ভিকটিম পরিবারের সদস্যরা। তাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

পরে নুসরাত জাহান লাবনী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তার রাজনৈতিক যাত্রা ও মানবাধিকার আন্দোলনে সফলতা কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেন। রিজভী তার সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং গুম হওয়া পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিকে সমর্থন জানান।

লাবনী বলেন, “গুম হওয়া প্রতিটি পরিবারের কান্না আমি নিজের পরিবারের মতো অনুভব করি। রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, বরং এই নির্যাতিত মানুষগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জানান, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যেতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুমের শিকার পরিবারের সদস্য হিসেবে লাবনীর এই প্রার্থিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং মানবাধিকার ইস্যুকে সামনে এনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *