সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালীন ইসলাম উদ্দিন নামে এক অভিভাবককে স্কুলের অফিস সহায়ক কর্তৃক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে এবং অফিস সহায়কের পক্ষ নিয়ে জুতা পেটা করার হুমকি দিয়েছে তারই আপন বড় ভাই।
বুধবার (৬ আগস্ট) ২ টায় উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত লিয়াকতগঞ্জ বাংলাবাজার স্কুল এন্ড কলেজে এই গঠনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রতক্ষ্যদূর্শী সূত্রে জানাযায়, লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের নিয়ম অনুযায়ী বুধবার দুপুরে অভিভাবক সমাবেশ চলছিলো। সমাবেশে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সেশন ফি বাড়ানো, কমানো এবং স্কুল সক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা চলে। এমন সময় লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক (১৩ বছর শিক্ষগতা) একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইসলাম উদ্দিন এবং স্কুলের অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ দু-জনের মধ্যে সেশন ফি’র টাকা কমানো-বাড়ানো নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডা চলাকালে হারুন অর রশীদ অভিভাবক ইসলাম উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে অকাট্য, খারাপ বাসায় গালিগালাজ শুরু করে। এসময় হারুন অর রশীদ এবং তার বড় ভাই আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম তার পক্ষ নিয়ে অভিভাবক ইসলাম উদ্দীনকে মারধর করার লক্ষে বারবার তেড়ে আসে, লাঞ্ছিত করে। উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের হস্তক্ষেপে বিয়ষটি বড় হয়নি। এমন সময় এক পর্যায়ে জুতা পেটা করার হুমকি দেয় অফিস সহায়কের বড় আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম।
এদিকে, শিক্ষক,গভনিংবডির সভাপতি ( সরকারি কর্মকর্তা) ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনার সংবাদ সাথে সাথেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয় তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয় সমালোচনার ঝড়। শিক্ষার্থীরা স্কুল বয়কট করতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে ক্লাসে ফিরে তারা। তবে বিষয়টি উপযুক্ত সমাধান না হলে স্কুলের ক্লাস বয়কটের হুশিয়ারী দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান,যিনি লাঞ্ছিত হয়েছেন। তিনি আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইসলাম উদ্দিন স্যার। ইসলাম উদ্দিন স্যার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক একজন ভালো শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি এই স্কুলে শিক্ষগতা করেছেন। সাবেক একজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক নিজেরই সাবেক প্রতিষ্ঠানে এসে তাও আবার অফিস সহায়কের কাছে অপমানিত হওয়া খুবই দুঃখজনক। এমন ঘটনা যেনো আর কোথাও না হয়। আমরা তেমন একটি বিচার দাবি করছি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে গেলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান,একজন অফিস সহায়ক হয়ে কিভাবে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকে লাঞ্চিত করতে পারে। একজন অভিভাবককে লাঞ্ছিত করা মানে স্কুলের প্রতিটা শিক্ষার্থীর অভিভাবককে লাঞ্চিত করা। আমরা এই অফিস সহায়কের দ্রুত বিচার চায়। অবিলম্বে অভিভাবকের কাছে যদি অফিস সহায়ক ক্ষমা না চায় তাহলে শনিবার কঠুর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সালেহা খাতুন নামে একজন অভিভাবক জানান,লিয়াকতগঞ্জ কলেজে অফিস সহায়ক কর্তৃক অভিভাবকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এই স্কুলে আমাদের ছেলে মেয়েরা কিভাবে ভালো শিক্ষা অর্জন করবে বুঝে আসেনা। ইসলাম উদ্দিন স্যার ১৩ বছর ওই স্কুলে শিক্ষকগতা করেছেন তবু উনার সাথে এই ঘটনা। তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়।
লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মতিউর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ জানান,অভিভাবক সমাবেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আসলে খুবই দুঃখজনক। এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিবহির্ভূত নিন্দনীয় কাজ। এরকম বিষয় কাম্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা যদি এরকম কারে তাহলে তাদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে, আর কি করবে।
অভিযুক্ত অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ বলেন,অনেক আগে থেকেই পারিবারিক বিষয়ে আমার বাবার সাথে তাদের ঝামেলা ছিল, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সাধারণ একটা বিষয় গুলাটে করার চেষ্টা করছে তারা। শফিকুল ইসলাম রতন সহ কিছু মানুষ পরিষ্কার একটা ঘটনা কে গুলাটে করছে আমার ধারনা।
লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেগম হাসিনা মমতাজ বলেন, ঘটনাটি অবিভাবক সমাবেশ চলাকালে সংঘটিত হয়।
তখন এমন অবস্থা ছিলো যে দু’পক্ষকে বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান করার পরিবেশ ছিলনা।
স্থানীয়রা বিষয়টা সমাধান করার দায়িত্ব নিয়েছে। আমরাও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তাকে শোকজ করব।
এবিষয়ে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভনিংবডির সভাপতি ও উপজেলার প্রানীসম্পদ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ এমদাদুল হক’র ব্যাবহৃত 01521213205 নাম্বারে দু’দিন ধরে কল দিলেও সাংবাদিকের নাম্বার পরিচয় থাকায় কল রিসিভ করেন নি।