দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে হাওরাঞ্চলের ফসলহারা কৃষকদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
পাশাপাশি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়স্বজন হিসেবে পরিচিত একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাও এই সহায়তা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৮ জুন) উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত সহায়তা বিতরণ করেন বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মিলন খান। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আকন্দ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোনা মিয়া, তার শ্যালক যুবলীগ নেতা উসমান গনি এবং ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা আল মামুন ও তার শ্বশুর আব্দুল হান্নান। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুর মোহাম্মদের পিতা শহিদ মিয়াও সহায়তা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন খাঁন’র ব্যবহৃত
01710716448 নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন,
ইউনিয়ন কমিটি যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা দিয়েছে সে অনুযায়ী কৃষি সহায়তা বিতরন করা হচ্ছে। এতে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী নেতাকে অতিথি করে ত্রান সহায়তা বিতরনের বিষয়টি সম্পর্কে চেয়ারম্যান জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলেও তিনি জানান।
