Shopping cart

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে আবার স্বৈরাচার ঘাড়ে চেপে বসবে: রবিন

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে আবার স্বৈরাচার ঘাড়ে চেপে বসবে : রবিন।

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে আবার স্বৈরাচার ঘাড়ে চেপে বসবে : রবিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন  বলছেন আমরা এক স্বৈরাচারকে দেশ থেকে উৎখাত করেছি। এখন আমরা যদি এখন অন্যায়ের প্রতিবাদ না করি তাহলে পুনরায় স্বৈরাচার আমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে।আমাদের কথা বলতে হবে, অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করতে হবে। আগামীতে আমরা সবাই মিলে নিরাপদ, সুখি, সমৃদ্ধ এবং ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

১৬ই জানুয়ারি (শুক্রবার) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শ্যামপুর থানার ৫৮ নং ওয়ার্ড ডিআইটি প্লট শ্যামপুর সরকারী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

রবিন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যে শাসন ব্যবস্থা ছিলো আমি তার বিপরীতে হাটতে চাই। প্রতিহিংসার রাজনীতি ঢাকা-৪ থেকে শুরু করে সমগ্র দেশ থেকে উৎখাত করতে চাই।  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিখিয়ে যাওয়া রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদীর সুযোগ নেই। যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সাধারণ জনগণ। তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। তিনি ছিলেন এদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। তিনি এসেছিলেন এদেশের মানুষের জন্য। তিনি সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন এবং আমাদের ও থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আপনারাই আমার সব। আমি আপনাদের সন্তান। এখানে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি সন্তান আপনাদের।  তাদেরকে আলাদা করার সুযোগ নেই।  আমরা সবাই মিলে আমাদের এলাকাকে গড়ে তুলবো। গুলশান বনানীতে কখনো থাকিনি। এই শ্যামপুর আমার পূর্বপুরুষে বাড়ি। আমি এখানেই থাকি। আমাদের এলাকায় কোন একক সিদ্ধান্ত অথবা একক আধিপত্য থাকবে না, এখানে প্রতিটি মানুষের কথা বলার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে। সবাই মিলে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে মানুষের যেমন সম্মান, তাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে।

এছাড়াও নিজের দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমিও মানুষ, মাটি দিয়ে তৈরি, ভুল আমারও হতে পারে। আপনারা আমাকে পরামর্শ না দিলে আমি সবকিছু জানতে পারবো না। আপনারা আমাকে সবসময় পরামর্শ প্রদান করবেন কোন কাজটি সর্বোত্তম এবং সাধারণের জন্য প্রয়োজনীয়।  এখানে জন্মেছি, আমাকে এখানেই মরতে হবে। আমি সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভরশীল। যদি সুযোগ পাই ক্ষমতা আপনাদের হাতেই দিয়ে দিতে চাই। আমার বাবাকে দেখেছি সমাজের বড় বড় আলোমদের সাথে পরামর্শ করে  বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতো। আমি তার দেখানো পথেই চলতে চাই। আমি আপনাদের জন্য কাজ করে আমার পরকালের পথ সুগম করতে চাই।

নিজ এলাকার মানুষের দুঃখ, দূর্দশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় সাবেক বিনাভোটে নির্বাচিত যে নেতারা ছিলেন তারা কেউ এই এলাকার সন্তান ছিল না ফলে তারা আমাদের দরদ বুঝত না। তাদের কোন বাড়িঘর এখানে ছিলনা। তারা আমাদের কোন উপকারে আসতো না। বহিরাগত গুন্ডাপান্ডা এনে এলাকা পরিচানা করেছে। বিভিন্ন বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুটিকয়েক ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

আমাদের এলাকায় অনেক সমস্যা, কঠোর পরিশ্রমী বৃহৎ এই এলাকার মানুষের জন্য নেই কোন সরকারি হাসপাতাল সুবিধা , পারিবারিক-সামাজিক উৎসব করার জন্য  নেই কোন সরকারি কমিনিটি সেন্টার, নয়টি সিটি করপোরেশনের একটিতেও খেলার মাঠ নাই, আমাদের ছেলেরা স্কুল থেকে এসে হয় রাস্তায় ঘুরছে, মাদকাসক্ত হচ্ছে ৷ নামে শহর আসলে শহরের কোন সুবিধা পাই না। আমরা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়েছি,  না দিলে ফাইন আর জেল হয়েছে কিন্তু আমরা না পেয়েছি গ্যাস, বিদ্যুৎ না পেয়েছি পানি।

আমাদের ৯০ ভাগ এলাকা এখনো ল্যাম্পপোস্টের আওতায় আসেনি। সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই  এলাকায় বিগত ১৮ বছরে কোন উন্নয়নই হয়নি। আপনারা হিসাব করবেন বিএনপি আমলে এই এলাকায় কতগুলো ইন্ডাস্ট্রি চালু ছিলো আর দীর্ঘ ১৮ বছর পরে কতগুলো চালু আছে। অতিলোভী কিছু লোক তাদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে  তারা আমাদের কথা চিন্তা করেনি।

আগামীতে এলাকার সকল মানুষের সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৯৯১-২০০৬ সালে যেমন এই এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ এর পৃষ্ঠপোষকতায় শহরে রূপান্তর হয় তেমন  আমরা সবাই মিলে আমাদের এলাকাকে গড়ে তুলবো। সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা আমাদের সকল সমস্যা একসাথে খুজে বের করে সমাধান করবো।  আমাদের সন্তানদের জন্য জায়গা খুজে খেলার মাঠ ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করণে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করবো। আমাদের মসজিদ, মন্দির এবং সাংস্কৃতি চর্চার  জন্য জায়গা বরাদ্দ ও নির্মাণের জন্য কাজ করতে হবে। আপনারা ডাক দেওয়া মাত্রই আমি হাজির হব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *