ডেস্ক নিউজ: রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আরিফুজ্জামান আরিফ অবশেষে ভারতে ধরা পড়েছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত একাধিক হত্যা ও হত্যা প্রচেষ্টা মামলার অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় আরিফ ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ তাকে আটক করে। পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায় তিনি বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা। বর্তমানে তাকে ভারতের স্বরূপনগর থানায় রাখা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হাবিবুর রহমান বলেন, আরিফুজ্জামানের বাড়ি নীলফামারীতে। গত বছর আগস্টে তাকে রংপুর থেকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এপিবিএনে বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি নিখোঁজ হন এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন।
পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আরিফুজ্জামান চার্জশিটভুক্ত আসামি। এ মামলায় চার্জ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বর্তমানে ছয়জন আসামি কারাগারে আছেন। এছাড়াও তিনি রংপুর মহানগরের আরও কয়েকটি হত্যা ও হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে তাজহাট থানার শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা, কোতোয়ালি থানার শহীদ মেরাজুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন হত্যা মামলা, কলেজ শিক্ষার্থী জিম হত্যা প্রচেষ্টা মামলা এবং পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় তার নাম রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের দমাতে সবচেয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করেছিলেন আরিফুজ্জামান। ১৬ জুলাই রংপুরের ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি মোড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জে নেতৃত্ব দেন তিনি। এমনকি শহীদ আবু সাঈদকে গুলি করার ঘটনায়ও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
কেস হস্তান্তর প্রসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ মামলা হতে পারে। সেই মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া নির্ভর করছে দুই দেশের মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।