নিজস্ব প্রতিবেদক, (সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বিয়ের প্রলোভনে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হোসাইন আহমেদ (১৮) নামে এক যুবককে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ আভিযানিক দল।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদারের দিকনির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার থানার হেমায়েতপুরের আর্জেন্টপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে অংশ নেয় র্যাব-৯ সিপিসি-৩ (সুনামগঞ্জ), র্যাব-৪ সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্প (ঢাকা), সাভার থানা পুলিশ এবং দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের একটি যৌথ দল।
গ্রেফতার হোসাইন আহমেদ দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের আগন রায়েরগাঁও গ্রামের আরশ আলীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পুরান বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রীর সঙ্গে মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে হোসাইনের পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে গত ৩ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোসাইন তাকে ফোন করে বাংলাবাজার ইউনিয়নের রাউলি পাইকপাড়া এলাকায় ডেকে নেয়। পরে সিএনজিযোগে ছাতক বাস কাউন্টারে নিয়ে সেখান থেকে ঢাকার মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় যায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ৪ জুন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ওই বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হোসাইন।
পরদিন সকালে সে ভুক্তভোগীকে টাঙ্গাইলে তার বোনের বাসায় যেতে বলে এবং টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করে পরে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়।
টাঙ্গাইলে বোনের বাসায় যাওয়ার পর বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। পরে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাটি শুনে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন।
গত ১০ জুন দোয়ারাবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী অধ্যাদেশ/২০২৫)-এর ৭/৯(১) ধারায় মামলা (নং-১৫) দায়ের করা হয়। মামলার পর র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় যৌথ অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার।
