দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের ছাতকে ভাড়া বাসায় দোয়ারাবাজারের গৃহবধূ রংফুল বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
স্ত্রীর মৃত্যুকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনা দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন স্বামী আব্দুল গফুর। অপরদিকে, প্রবাসে থাকা বড় ছেলে আব্দুল হান্নান ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন। পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি মামলা, সংবাদ সম্মেলন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রংফুল বেগমের স্বামী এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাটুরপাড় (বালিউড়া) গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বড় ছেলে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী মারজানা আক্তার, এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া, তার স্ত্রী সুজিয়া বেগম এবং জাবেদ মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গফুর তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, স্ত্রীর মৃত্যু শুরু থেকেই তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এ কারণে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তার প্রবাসী ছেলে আব্দুল হান্নান ছাতকে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন হত্যার অভিযোগ তুলেছেন।
আব্দুল গফুর বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
একই পরিবারের দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই রংফুল বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব।
উল্লেখ্য, দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাটুরপাড় (বালিউড়া) গ্রামের বাসিন্দা রংফুল বেগম ও তার স্বামী আব্দুল গফুর জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে ছাতক পৌর শহরের রহমতবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাদের সঙ্গে বড় ছেলে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী মারজানা আক্তার রুজিও থাকতেন। গত ২০ মার্চ ওই ভাড়া বাসা থেকে রংফুল বেগমের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই ঘটনাটিকে ঘিরে মামলা, পাল্টা অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে।

