জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) টিএসসিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মো: পাপ্পু রহমান এবং আমাদের দেশ পত্রিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মো: লিমন ইসলামের বিরুদ্ধে ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারসহ পাপ্পুর সহযোগী নূর হোসেন এবং মো. হাসিবকে হাতেনাতে ধরেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী জবি শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জবি টিএসসিতে অবৈধভাবে গ্যাসের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা পাপ্পু।
জানা যায়, জবি ছাত্রলীগের নেতা মো.পাপ্পু রহমান আমার দেশ পত্রিকার জবি প্রতিনিধি মো. লিমন ইসলামের ছত্রছায়ায় একটি সিন্ডিকেট টিএসসি এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়-বিক্রয় করত। তাদের সহযোগী হিসেবে নীলফামারীর নূর হোসেন, মো. হাসিব ও পাপ্পুর রুমমেট আল আমিন কাজ করতো।
জবি শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হওয়া মো.হাসিব ও নূর হোসেন জানান, “আমরা মুরগিটোলা এলাকা থেকে প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ১৫০০ টাকায় ক্রয় করি। সেই গ্যাস তারা টিএসসিতে দিয়ে যায়। আমরা তা ১৭৫০-১৮০০ টাকায় বাংলাবাজার, রায়সাহেব বাজার সহ আশেপাশের এলাকায় বিক্রি করি।
পাপ্পুর সহযোগী নূর হোসেন আরো বলেন, “আমরা শুধু সিলিন্ডার পরিবহনের কাজ করেছি। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। আমরা পাপ্পু ভাইয়ের কর্মী।”
সহযোগী মো. হাসিব বলেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি ব্যবসা। আমরা এইসব জানি না। আমরা কেবল পেটের দায়ে কাজ করি ।”
জবি শিক্ষার্থীরা জানান, “শিক্ষার্থীদের এমন জনবহুল আড্ডার জায়গায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির অভাব ছিলো। এখানে কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে জবি শিক্ষার্থীদের অপূরনীয় ক্ষতি হতো।”
এরপূর্বে জবি প্রক্টর অফিস থেকে অবৈধ দোকান উঠানোর জন্য নোটিস প্রদানের পরেও তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিল।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নীলয় হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুইদিন আগেই সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো। আজকে বিকালে তাদেরকে আবার বলা হয়েছিলো গ্যাস সিলিন্ডার গুলো সরিয়ে দেওয়ার জন্য, তারা আমাদের কাছে দু’ঘন্টা সময় চেয়েছিলো।”


