কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরে কুবির প্রায় ৮০জন শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল বিকেল সাড়ে ৫টায় কোটবাড়ি-বেলতলী সড়কে ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল বাস (নং: ১১-০০০৪), পুলিশ লাইনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, বেলতলী থেকে কোটবাড়ি আসার পথে একটি “লাল-সবুজ” পরিবহনের বাসের সাথে পাশাপাশি চলার সময় ঘষা লাগে এবং ধাক্কা খায়। এতে করে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দুইটি বাস থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে কুবির বাস চালক সুমন দাস উত্তেজিত হয়ে লাল-সবুজ পরিবহনের বাসচালককে মারধর করেন। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থী- চালকদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপরও পরিস্থিতি শান্ত না করে পুনরায় বাস চালানো শুরু করলে চলন্ত অবস্থায় আবারও একই বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে বাসে থাকা প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সুমন দাস অপর বাসের লুকিং গ্লাস ভেঙে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
উভয় বাস চালকের এমন বেপরোয়া আচরণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন।
ঘটনার সময় বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত এই ধরনের দায়িত্বহীন আচরণের বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালক সুমন দাস বলেন, “রাস্তায় হঠাৎ করে ওই বাসটি খুব কাছাকাছি চলে আসে, যার কারণে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সমস্যা হয়। পরে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তবে বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত।”
কুবি পরিবহন পুলের সহকারী সচিব মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন,“তার (চালক) বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ না করায় প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে আমরা অবশ্যই আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।



