কুবি প্রতিনিধি: বাড়ির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও শ্রমিকদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৩ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া থানার দেবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, আখাউড়ার কাউন্সিলার পদপ্রার্থী ও বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া, আখাউড়া পৌর শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শফিক মিয়া, এবং আরেক বিএনপি নেতা বাহার মিয়া।
ভুক্তভোগীর নাম মো. ফয়সাল মিয়া। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়াও তিনি স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ সাজেদা বেগম (৫৫) ও তার ছেলে বাড়ির পাশের রাস্তার ধারে বাঁশের বেড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ শফিক মিয়া (৫০), মোঃ মহসিন মিয়া (২৮) ও মোঃ বাহার মিয়া (৪৫)সহ আরও কয়েকজন এসে তাদের কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে সাজেদা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তার বসতঘরের টিনের চাল, বেড়া, দরজা-জানালা ও পর্দা ভেঙে ফেলে এবং বাঁশের বেড়াও ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে তারা সাজেদা বেগম ও তার ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে সাজেদা বেগমের হাত, পিঠ ও পায়ে এবং তার ছেলের মাথা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।
এ সময় হামলাকারীরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুবি শিক্ষার্থী ফয়সাল মিয়া বলেন, “আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। কারো ক্ষতি করিনি। বাড়িতে আসছিলাম ঈদ করার জন্য। স্থানীয় রাজনীতির নেতা-কর্মীরা আমাকে আমার বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। আমার মা আমাকে বাঁচাতে গেলে আমার মায়ের চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেয়। আমরা কোনো ক্রমে বেঁচে ফিরে আসি। সবার কাছে আমার অনুরোধ আমাকে বাঁচান। এই অত্যাচারী জুলুমদের হাত থেকে আমাকে বাঁচান। আমি সবার কাছে বিচার চাই, দেশবাসীর কাছে বিচার চাই।”
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়ে এখনো সব কিছু ক্লিয়ার না। খোজ নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



