Shopping cart

  • Home
  • শিক্ষাঙ্গন
  • জবি শিক্ষককে হেনস্তা ও কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

জবি শিক্ষককে হেনস্তা ও কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

মার্চ ১৮, ২০২৬

জবি শিক্ষককে হেনস্তা ও কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

জবি শিক্ষককে হেনস্তা ও কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই শিক্ষক হেনস্তা ও কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনসিসির প্লাটুন কমান্ডার আবু হানিফকে ঘিরে ধরে হেনস্তা ও নিজাম নামে এক কর্মচারীকে মারধর করেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শান্ত চত্ত্বরে ও প্রশাসনিক ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আসেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনসিসির প্লাটুন কমান্ডার আবু হানিফ। এ সময় শান্ত চত্বরে তাকে ঘিরে ধরেন ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে নেতৃত্বে ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ। সাথে আরো বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন।

ভুক্তভোগী অধ্যাপক আবু হানিফ বলেন, “আমার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর হঠাৎ হিমেল আমাকে ডেকে বলেন, ‘আপনি এলাকায় বিএনপি করেন, আর এখানে গুপ্ত রাজনীতি করেন।’ এরপর হিমেলের সঙ্গে থাকা কয়েকজন আমাকে ঘিরে ফেলে। তারা আমার কাছে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকে এবং একপর্যায়ে আমার ফোন চেক করার চেষ্টা করে। আমি আপত্তি জানালে আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। আমার সঙ্গে থাকা বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাকে সেখান থেকে ধরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকেও হেনস্তা করা হয়। এমনকি তার ফোনও তল্লাশি করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছি। এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অপমানজনক ও নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি তখন জকসু প্রতিনিধি ও পরবর্তীতে উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছি এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”

আরেক ভুক্তভোগী শাহ আলম বলেন, আমি আমার বন্ধু হানিফের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসে ঢোকার সাথেই সে হানিফকে ডাক দিয়ে ট্যাগিং করতে থাকে। আমি এর প্রতিবাদ করলে হিমেলসহ বাকি নেতাকর্মীরা আমার উপর চড়াও এবং মারমুখী হয়। তার আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। বিএনপির উচিত এমন নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার করে ছাত্রদলকে কলঙ্কমুক্ত করা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলামও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষক হানিফ আমার বন্ধু। আমি তার সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। তখন হিমেল, সুমন সহ অনেকে তার মোবাইল নিয়ে টানাটানি করলে আমি নিষেধ করি। তখন হিমলে ও সুমন আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি পরিচয় দিলেও আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে ভিসি স্যারের রুমে নিয়ে যায়। পরে সেখানে গিয়ে আমি কথা বলতে গেলে তারা আমার উপরেও চড়াও হয় এবং বলে আপনার বন্ধু হানিফ জামাতের হলে আপনিও জামাতি। সে মন্ত্রী মিলনের রাজনীতি করায় মিলন যদি জামায়াতকে বিএনপি বানায় সেটা কি আমরা মেনে নেব নাকি? মিলন কে?

এদিকে, একই দিনে সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। তবে ঘটনার পর তিনি আতঙ্কে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা তার ফেসবুক পোস্টে জানান, শান্ত চত্বরে হানিফ স্যারকে হেনস্তা করা হয় এবং তার এক বন্ধুকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি জকসুর পাঠাগার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিবকে কল দিয়ে বিষয়টি জানালে তা সাময়িকভাবে সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, পরে ভিসি ভবন থেকে তিনি দেখেন, কর্মচারী নিজাম উদ্দিনকে মারধর করা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এ ধরনের ঘটনা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ন আহবায়ক সুমন সর্দারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ বলেন, “মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়। মূলত কর্মচারী নিজামসহ কয়েকজন অনেক আগে আমাদের মিছিলে লাঠি নিয়ে হামলা করেছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই গতকাল ভিসি স্যারের দপ্তরে যাওয়ার সময় সামান্য কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হানিফ স্যার শাহ আলম নামে একজন বহিরাগতকে নিয়ে এসেছিলেন। তখন আমাদের ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট হিমেল ভাই স্যারকে বলেন, আপনি এলাকায় বিএনপির শিক্ষামন্ত্রী মিলন ভাইয়ের রাজনীতি করেন, আর এখানে জামাতের রাজনীতি করেন। হিমেল ভাই এ কথা বললে তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধু আমাদের প্রেসিডেন্টকে না চিনেই পাল্টা কথা বলতে থাকে। পরে তার ফোন চেক করে ফেসবুক প্রোফাইলে ছাত্রলীগের পোস্ট পাওয়া যায়। তবে আমরা এ বিষয়ে তাকে তেমন কিছুই বলিনি। আমরা কেবল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা জানান, নতুন উপাচার্য ড. রইছ উদ্দীনের দায়িত্ব গ্রহণের দিন আমরা জকসুর প্রতিনিধিরা ভিসি ভবনে অবস্থান করছিলাম। এ সময় গণিত বিভাগের হানিফ স্যার আমাদের কাছে এসে জানান, তাকে ছাত্রদলের কয়েকজন হেনস্তা করেছে। বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। পরে শান্ত চত্ত্বরে তাকিয়ে দেখি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের এক কর্মচারীকে মারধর করছেন। একই সময়ে প্রক্টর অফিসের সামনেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ধরনের ঘটনা এত গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমাদেরকে হতাশ করেছে। আমরা ভিসি স্যারের কাছে অনুরোধ করছি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক। ছাত্রদল এগুলো কখনই প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে ওই ২ শিক্ষক যেভাবে নিজেদের বিএনপিপন্থি দাবি করলেন, আমি ছাত্রদল সভাপতি হিসেবে বলছি, তারা বিএনপিপন্থি না জামায়াতপন্থী। জকসু নির্বাচনে সে ধরনের ভূমিকায় তারা অবতীর্ণ হয়েছিল। আজ বিএনপি ক্ষমতায় তাই তারা নিজেদের বিএনপিপন্থি দাবি করছে। শুধু তাই না, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বলছে তার হাত নাকি অনেক উপরে। শিক্ষক হয়ে এ ধরনের হুমকি কীভাবে দেয়, আমি এর বিচার চাই। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে ওনার। তাই বলে একজন শিক্ষক হয়ে এভাবে হুমকি দিতে পারেন না।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দিন বলেন, গতকাল হানিফ আমার কাছে এসেছিল। আমি শুনেছি এই ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা সবাই মিলে মিলেমিশে থাকতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *