সুনামগঞ্জ, সংবাদদাতা: রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের আগমুহূর্তে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের একাংশের মতে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী এই আসনে “নীরব ভোট বিপ্লব” ঘটাতে পারেন।
এলাকায় দীর্ঘদিন সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকা এই রাজনৈতিক দলটির সমর্থক, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ভোটারদের দাবি, এবার ভোটের মাঠে “নীরব বিপ্লব” ঘটাতে যাচ্ছেন তিনি।
এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানী ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীতা ঘোষণার পূর্ব থেকেই তিনি মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, জনসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলেছেন । আসনটিতে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই তীব্র। তবে এবারের নির্বাচনে ‘ভোটের কৌশল ‘জেনারেশন ‘জেড’,প্রবাসী এবং চাকুরীজীবিরা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীত নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ ও সাম্প্রতিক সমীকরণে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও শেষ মুহূর্তে চমক দেখাতে পারে জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আসনটিতে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৭০ টি, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার।
সরেজমিনে ভোটারদের সাথে আলোচনায় জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানী নির্বাচনে বাহিরে ও নিজের ব্যক্তিগত পরিচয়ে ছাতক-দোয়ারাবাজার দুই উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। পারিবারিক ঐতিহ্য আর নিজের পেশাগত জীবনের কারনে ব্যক্তিগত বিশাল একটি ভোট ব্যাংক ও রয়েছে তার। সালাম মাদানী, পেশাগত জীবনে একজন ইসলাম প্রচারক আলেম ও ছাতকের একমাত্র মাদ্রাসা গোবিন্দনগর ফজলিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩৩ বছর শিক্ষকতার জীবনের ইতি টানেন হাজারো আলেম,ওলামা আর মানুষ গড়ার মাধ্যমে। আসনটির দুটি উপজেলার ২২ টি ইউনিয়নে ইসলামীক মাহফিল করার মাধ্যমে এই আসনটিতে ভোটাদের বড় একটি অংশ তার ভক্ত এবং ছাত্রদের ঘিরে দখলে থাকায় বিজয়ের দিকে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়ার পথে।
এছাড়াও দুই উপজেলার ২২ টি ইউনিয়নে দিনরাত মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে ঘুরা বেড়ানোয় ভোটের মাচ আরো শক্ত করছেন তার অবস্থান। এতে আগামী ১২তারিখ তার পক্ষে নিরব ভোট বিপ্লব ঘটাতে এমনটাও সম্ভাবনা দেখছেন এই আসনের ভোটাররা।
অনেকেই বলছেন বিএনপি-আওয়ামীলীগকেতো একাধিকবার ক্ষমতার চেয়ারে বসানো হয়েছে। তাদের কে দেখেছি একবার জামায়াতে ইসলামীকেও দেখা প্রয়োজন। তাই গ্রামগঞ্জের ভোটাররা এবার জোয়ার তুলেছে ‘সব দেখেছি বার-বার,দাড়িপাল্লা এই বার। অনেকেই আবার বিভিন্ন জটিলতায় প্রকাশ্যে ভোটের কথা না বললেও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় বসানোর সমর্থন দিবে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
বিশেষ করে আসনটিতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানীর পক্ষে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। যারা প্রকাশ্যে আসছেন – না, তারাও স্থানীয় রাজনীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাচ্ছেন এমন আলোচনায় এখন দখল করে রেখেছে ভোটেে মাঠ।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানান, এলাকার সামাজিক, ধর্মীয় ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সংগঠনে জামায়াতপন্থী স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও তরুণদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান। অনেকের মতে, বিস্তার, ভোটার যোগাযোগ আর সেবামূলক কাজের মাধ্যমে তাদের শক্তির জায়গা অর্জন করতে পেরেছে। যা ভোটের মাঠে এক বড় ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।
ছাতকের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এই এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আগের থেকে বেশি মজবুত। মানুষ চুপচাপ কথা বলে, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় দেখা যাবে আসল শক্তি কে।”
অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হতাশার মধ্যে বিকল্প ধারার নেতৃত্ব জামায়াতে ইসলামী’র প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে।
এ আসনে বর্তমানে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মনোনীত প্রার্থীরাও তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন এলাকায় সুপরিচিত। তাই ভোটের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শেষ দিনের প্রচারে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী’র সমর্থনে দুই উপজেলা জামায়াত শক্তি প্রদর্শন করায় বিএনপির ভোট ব্যংকে আরো বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
আসনটির ছাতক ও দোয়ারাবাজার দুই উপজেলার পৃথক পৃথক সমাবেশে পাল্টে দিয়েছে ভোটের মাঠের চিত্র। অনেকেই বলছেন কৌশলগত ভাবে শেষ প্রচারনায় বিএনপি’র প্রার্থীকে ঘায়েল করলো জামায়াতের প্রার্থী। আগের দিন বিএনপি সমাবেশ করায় কৌশলে পরেরদিন সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী, দুই উপজেলার পৃথক দুই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ভোটের মাঠের হিসাব ঘুরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন কৌশলগত আর জনসাধারণের ম্যান্ডেট বুঝার কারনে শেষ দিনের এই প্রচারনায় বলে দেয় সুনামগঞ্জ – ৫ ( ছাতক-দোয়ারা) আসনে নিরব ভোট বিপ্লব গঠাবে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানী’র পক্ষে।
এছাড়াও জামায়াত ঘরে ঘরে যোগাযোগ, মসজিদভিত্তিক আলাপ, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংলগ্ন মাধ্যমে সমর্থন বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করে নির্বাচনী মাঠে দাড়ি পাল্লার গনজোয়ার তৈরীতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য অনেকেই এটিকে ‘নীরব রাজনৈতিক উপস্থিতি’ বলে উল্লেখ করছেন।
এমনকি নানা উন্নয়নমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী।



